অজ্ঞাত রোগে মরছে গ্রীষ্মকালীন টমেটো গাছ, কৃষকরা বিপাকে

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
০৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৫৪আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৪১

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গ্রীষ্মকালীন টমোটো গাছ

উত্তরাঞ্চলের মধ্যে দিনাজপুরেই সব চেয়ে বেশি গ্রীষ্মকালীন টেমেটোর আবাদ হয়। এ কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা টমেটোর দামও ভালো পায়। ফসলের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হন। তবে এবার অজ্ঞাত রোগের কারণে টমেটো গাছগুলো মরে যাচ্ছে। আগের দিন ভালো থাকলেও পরের দিন হঠাৎ করেই গাছগুলো মরে যাচ্ছে। গাছ হঠাৎ করে মরে যাওয়ায় স্থানীয়রা কৃষকরা এ রোগের নাম দিয়েছেন হার্ট অ্যাটাক। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন,বাড়িতে উৎপাদিত বীজ  বপণের কারণে এটা হচ্ছে। তাই তারা কৃষি উন্নয়ন অধিদফতর (বিএডিসি)-এর অফিসে উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলার কাউগাঁ, গাবুড়া ও পাঁচবাড়ী বাজার থেকে কোটি কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হয়। এসব টমেটো যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিদিন এসব বাজার থেকে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ৩ থেকে ৪শ’ টন টমেটো বেচাকেনা হয়। অন্য ফসলের চেয়ে টমেটোর দাম ভালও পাওয়ায় এই শবজি আবাদের দিকে ঝুকছেন কৃষকরা।

এবার পরিপক্ক হওয়ার আগেই কৃষকদের টমেটো ক্ষেতে দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত রোগ। হঠাৎ করেই মরে যাচ্ছে টমেটো গাছ। বালাইনাশক ব্যাবহার করেও নির্মূল করা যাচ্ছে না এই রোগ। এর ফলে এবার লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুরে এ রোগ প্রথম দেখা দিয়েছিল ২০১৬ সালে। দুই বছরেও এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও প্রতিকার বা ব্যবস্থাপত্র পায়নি কৃষকরা। এই রোগের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গ্রীষ্মকালীন টমোটো গাছ

বোলতৈড় এলাকার কৃষক সেলিম রেজা জানান, আগের দিন গাছ ঠিকঠাক থাকলেও পরের দিন গিয়ে দেখা যাচ্ছে গাছ মরে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা এই রোগের নাম দিয়েছে হার্ট অ্যাটাক। কোনও জমিতে এই রোগ দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যেই জমির সব গাছ মারা যাচ্ছে। এখনো দ্রুত ছড়ানো এই রোগের কোনও প্রতিকার তারা পাননি বলে জানান।

এরইমধ্যে বিভিন্ন জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে জানিয়ে গোপালপুর এলাকার কৃষক সবুজ রায় বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের খবর দেওয়ার হলেও তারা অনেক জায়গায় যাচ্ছেন না এবং কোনও পদক্ষেপও নিচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এবার আমাদের লোকসান গুনতে হবে।’

কৃষক রমেন দাস জানান, তার জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে সঠিক কোনও পরামর্শ পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় কীটনাশক দোকানদারদের পরামর্শে ক্ষেতে স্প্রে করেছন। তবে এতে খুব একটা উপকার হয়নি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, ‘বাড়িতে নিজের উৎপাদিত বীজ ব্যবহারসহ ভাইরাস ও ব্যাকরেটিয়ার কারণে এই রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ভালও ও হাইব্রিড জাতের বীজের প্রচলন হলে আগামীতে এই রোগের সমস্যা থাকবে না। কৃষকরা যাতে বিএডিসি’র বীজ ব্যবহার করে সেজন্য এরইমধ্যে লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ করে বিষয়টি কৃষকদের জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জনবল স্বল্পতার কারণে সব কৃষককে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বল্প জনবল নিয়েই তারা বেশি সেবা দেওয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কৃষকরা চাইলে অনায়াসে ইউনিয়ন কার্যালয়ে এসে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারে বলে তিনি জানান।

 আরও পড়ুন: কোচিং সেন্টার খোলা রাখায় ৪ শিক্ষক আটক, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে