জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত সার্ভার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট, পণ্যের পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম। এতে করে বন্দরের ভেতরে আটকা পড়েছে পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এদিকে বন্দরে পণ্য আটকা পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা। তবে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে আমদানি রফতানি কার্যক্রম চালু রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত সার্ভার বন্ধ করে দেওয়া হয় বুধবার বিকাল ৪ টা থেকে। এতে করে ওই সময় থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে আগের আউটপাস করা বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে আমদানিকৃত পণ্যগুলো বন্দর থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই বুধবার বিকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এতে করে হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে পণ্যের পরীক্ষণ, শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানিকৃত কোনও প্রকার পণ্য ছাড় দেয়নি। শুক্রবারও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শনিবার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ফলে পণ্যবাহী ট্রাকের জট বাড়তে পারে।’
তিনি জানান, টানা দুই দিন ধরে বন্দরের ভেতরে আটকে পড়া ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ডেমারেজ হিসেবে বাড়তি ভাড়া দিতে হবে। এছাড়াও ভারত অভ্যন্তরে আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সন্মুক্ষিণ হবেন। এছাড়াও যেসব আমদানিকারক কম শুল্কে বন্দর থেকে চাল খালাসের জন্য বিপুল সংখ্যব চাল আমদানি করেছিলেন সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে সেসব চালের বেশিরভাগ বন্দরে আটকা পড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাজু আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার বিকাল থেকে কাস্টমসের সার্ভার না থাকার কারণে আমরা কোনও বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে পারিনি। এতে করে আমাদের আমদানিকারকদের বেশ কিছু চাল বন্দরের ভেতরে আটকা পড়ে গেছে। এছাড়াও নতুন বাজেটে চালের উপর শুল্ক আরোপ করা হলে বাড়তি শুল্কেই সেসব চাল বন্দর থেকে বের করতে হবে। এতে করে আমাদের আমদানিকারকরা ক্ষতির সন্মুক্ষিণ হবেন।’
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. রেজভী আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার কারণে অনেক পণ্যের আমদানি বা রফতানিতে শুল্ক কম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত সার্ভার অ্যাসাইকোডা ওয়ার্ল্ডে সংযোজন বিয়োজন কার্যক্রম চলার কারণে সার্ভারের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বুধবার বিকাল থেকে এনবিআর সার্ভার বন্ধ রেখেছে। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে পণ্যের, পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সার্ভার চালু হলে কাস্টমসের সব কার্যক্রম শুরু হবে। সেসময় নতুন বাজেটে আরোপিত শুল্কহার হিসেবে সব পণ্যের শুল্কায়ন করে বন্দর থেকে ছাড় দেওয়া হবে।’
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের গণসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্দরের ভেতরে চাল, পাথর, খৈলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে ১৭ ট্রাক পেঁয়াজ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ অব্যাহত থাকায় পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন- বাজেটের গাণিতিক হিসাব মিলবে কীভাবে?







