একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইছেন। পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া, বোদা ও দেবীগঞ্জ এ পাঁচটি উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড় জেলা। এখানে সংসদীয় আসন দুইটি। পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-১ আসন। এ আসনে মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রে লবিং-গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় পৃথকভাবে গণসংযোগও করছেন।
মনোনয়ন নিয়ে দুই দলেরই ভেতরে-ভেতরে কোন্দল বাড়ছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সংখ্যা বেশি এবং তারা এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করায় জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই এক মঞ্চে বসেন না। দুই দলের বিভক্ত নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। নিজের দলের নেতাকর্মীরাই একে-অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। এতে অস্থিরতা বিরাজ করছে নির্বাচনি এলাকায়। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা মারামারি ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। মামলা পর্যন্ত হয়েছে। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলারও। মনোনয়নকেন্দ্রিক দ্বন্দ মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে মনোনয়ন নিয়ে জোট-মহাজোটের শরিক দলগুলোও কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে দুই দলেরই প্রধান অন্তরায় শরিক দল। জোট-মহাজোটের হিসাব-নিকাশও করতে হচ্ছে প্রধান দল দুটিকে। আগামী নির্বাচনে উভয়দলের শরিক দলগুলো নিয়েও হযবরল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাসদ ও জামায়াতে ইসলামী- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর জয় পরাজয়ে ফ্যাক্টর।
পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৬ হাজার ৭৩ জন। এ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনি এলাকা।দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সর্বত্রই চলছে নির্বাচনি আলাপ।তবে আওয়ামী লীগ ও জোট-মহাজোটের প্রার্থীদের নির্বাচনি দৌড়ঝাঁপ দেখা গেলেও বিএনপি প্রার্থীদের তৎপরতা তুলনামূলক নেই।
নানা মেরুকরণ পঞ্চগড়-১ আসনে
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সাবেক স্পিকার ও সাবেক আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার জয়লাভ করলেও বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে অবিভক্ত জাসদের প্রার্থী, বর্তমানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান মশাল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অবশ্য বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এ আসনে একাধিকবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নাজমুল হক প্রধান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জেলা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মনে একটাই প্রশ্ন, আসন্ন নির্বাচনে জোটগতভাবে এ আসন থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, নাজমুল হক প্রধান না জাতীয় পাটির প্রার্থী আবু সালেক। নাকি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। জোট মহাজোটের প্রার্থীরা ছাড় না দিলে এ আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নানা মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে।
ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় আওয়ামী লীগে বিভক্তি
পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা, আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রচার ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে মাঠে নামায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল হক প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দলের চেয়ে দলের বাইরের নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়ায় বিরোধ শুরু হয়। মজাহারুল হক প্রধান এমপি থাকাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম সুজনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ সময় দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে দলের বাইরের এবং আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের লোকজনদের নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। দলীয় অনেক নেতাকর্মী বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। পরে সম্মেলনে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ না থাকায় অনেকেই তার সঙ্গ ত্যাগ করেন। এতে মজাহারুল হক প্রধানের অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তার অনুসারী অনেককেই মূল কমিটিতেই রাখা হয়নি। নবীন-প্রবীণ যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে পরিবারতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করায় তৃণমূলে দলের ভিত যেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে তেমনি দ্বন্দ্ব কোন্দলও বাড়ছে। মজাহারুল হক প্রধান ও তার অনুসারীদের অভিযোগ, ঘোষিত জেলা কমিটিতে সভাপতি নুরুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাতের পক্ষের ও তাদের উভয়ের পরিবারের লোকজনকে পদায়ন করা হয়েছে বেশি। ফলে অনেক ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাকর্মীকে জেলা কমিটি রাখা হয়নি।
আওয়ামী লীগে পাঁচটি গ্রুপ সক্রিয়
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে আওয়ামী লীগের পাঁচটি গ্রুপ রয়েছে। শুধু মূল দল আওয়ামী লীগেই নয়, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও একই অবস্থা।দলীয় একটি সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বকর ছিদ্দিক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী, আরিফুল ইসলাম পল্লব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাবুল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া খাতুন, হারুন অর রশিদ সেলিম, চেয়ারম্যান মুসা কলিমুল্লাহসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করছেন। প্রায় সময়ই এখন মাঠে থাকেন। দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি তার পক্ষের লোকজনদের নিয়ে সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন।
নাঈমুজ্জামান মুক্তা মুক্তিযোদ্ধা কাজী মাহাবুবুর রহমান মাহবুব, সাবেক মহিলা এমপি ফরিদা আকতার হীরা, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মকলেছার রহমান মকলেছ, নায়বুল ইসলাম, কামরুজ্জামান শেখ মিলন, সাইফুল আলম বাবু, রওশন জামিল চৌধুরী ডলার, বিপেন চন্দ্র রায় বিপেন মাস্টারসহ বেশ কিছু আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সাবেক স্পিকার ও আইনমন্ত্রী মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজের জামাই, জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন, ফজলে নুর বাচ্চু, মো. আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান, কামরুজ্জামান কামু, আনিছুর রহমান, আইয়ুব আলীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। তিনিও বিভিন্ন ব্যক্তি, ক্লাব, প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ,মক্তব, মন্দিরে দান-অনুদানসহ এলাকার মানুষের পাশে থাকছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু তোয়াবুর রহমান, আমিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির উজ্জ্বল, জুলফিকার আলী জুলি, মায়নউদ্দিন ইসলাম, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, উঠোন বৈঠক ও শোডাউন করছেন। নবীন-প্রবীণ নেতাকর্মীদের নিয়ে উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তরুণ সংগঠক আনোয়ার সাদাত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তিনিও কোন্দল ও অসন্তোষ নিরসন করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বরং যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মূল দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন না হলে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের পক্ষে কাজ করবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী নাঈমুজ্জামান মুক্তা বলেন, তরুণ প্রজন্ম এবং স্থানীয় মানুষের ভালোবাসাই আমার ভরসা। আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইবো। আগামী দিনে ক্লিন ইমেজের এবং তরুণ নেতৃত্ব খুঁজলে আওয়ামী লীগ আমার প্রতি আস্থা রাখবে। সেক্ষেত্রে আমি আমার সততা এবং যোগ্যতা নিয়েই জনগনের পাশে দাঁড়াতে পারবো।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান বলেন, আমি ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। এ কারণে তিনি এবারও আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশাবাদী। মানুষের মনের কথা আমি বুঝি। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে আবার নির্বাচিত করবেন।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত বলেন, বিগত নির্বাচনে আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে সাধারণ মানুষের সমর্থনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবো বলে আশা করছি।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সব নেতাকর্মী ও সমর্থক একত্রিত হবে।
বিএনপি প্রকাশ্যে দুই ভাগে বিভক্ত
বিএনপিতেও দ্বন্দ্ব-কোন্দলের শেষ নেই। উপদল কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো গতিহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কর্মী-সমর্থক তো বটেই অনেক নেতাও ঝিমিয়ে পড়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা রাজনীতি বাদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।
সাবেক স্পিকার ও আইনমন্ত্রী, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক এমপি মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজের মৃত্যুর পর পঞ্চগড় জেলা বিএনপির হাল ধরেন সাবেক স্পিকার ও শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে স্পিকারের সমর্থক একটি অংশ পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোজাহার হোসেনের বিরোধিতা করেন। এ কারণে তিনিও হেরে যান। নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ আসনের সাবেক এমপি মোজাহার হোসেনের বিরোধিতাকারীদের স্থান দেওয়াসহ নানা কারণে জমিরউদ্দিন সরকারের সঙ্গে মোজাহার হোসেনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল শুরু হয়।
২০০৯-১০ সালে জেলা বিএনপির সম্মেলনে পঞ্চগড়-২ আসনের সাবেক এমপি মরহুম মোজাহার হোসেন সভাপতি ও মরহুম অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে নাজমুল হকের মৃত্যু হলে সাধারণ সম্পাদক পদকে নিয়ে পঞ্চগড়ে বিএনপির বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার তার অনুসারী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদকে সাধারণ সম্পাদক করতে ঢাকায় বসে কলকাঠি নাড়া শুরু করেন। মাঠ পর্যায়ের নেতা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মজিদকে মেনে নিতে চাননি।এরপর থেকেই জেলা বিএনপি প্রকাশ্যে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।
পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম তার অনুসারীদের নিয়ে পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। তার সঙ্গে যোগ দেন পঞ্চগড়-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মরহুম মোজাহার হোসেন এমপি। মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দলীয় কার্যালয় দখল, পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন, বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কারসহ পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘটনায় নেতাকর্মীদের ঐক্যেও ফাটল ধরে। বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এমপি মোজাহার হোসেনের মৃত্যু হলে পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম এ গ্রুপটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
দ্বন্দ কোন্দল নিরসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা ও উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করলেও দ্বন্দ্ব নিরসনে ব্যর্থ হন। ২০১১ সালের পর থেকে জেলা বিএনপির দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিএনপির এই দ্বন্দ্ব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ৯ থেকে ১০ বছর ধরে জেলা কমিটিবিহীন বিএনপির দলীয় কোন্দল দীর্ঘদিনের। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি বাড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
জমিরউদ্দিন সরকারের সঙ্গে পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলামের বিরোধ
আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে চান ঢাকায় বসবাসরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার অথবা তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। ক্ষমতায় থাকাকালে এমপি, মন্ত্রী ও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জমিরউদ্দিন সরকার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ কারণে তার জনপ্রিয়তা, সুনাম ও পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় না আসা, বিএনপির দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন না করাসহ বিভিন্ন কারণে তার জনপ্রিয়তা কমে গেছে। অন্যদিকে নওশাদ জমিরের নিজের তেমন পরিচিতি নেই, বাবার পরিচয়েই তিনি পরিচিত। মাঝে মধ্যে বাবা-ছেলে এলাকায় আসেন। স্বপক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করেন। এ আসনে জমিরউদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন না দিলে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম মনোনয়ন চাইবেন। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংকও গড়ে তুলেছেন। তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তৌহিদুল পাঁচ বার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রণিক বলেন, একেক জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ হয় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে। কেন্দ্র সবকিছু চাপিয়ে দিলে রাজনীতি সচল থাকে না। মূলত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের মূল্য না দিয়ে জমিরউদ্দিন সরকারের প্রভাবে কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন। এ কারণেই জেলার রাজনীতি কোন্দলে ভরে গেছে।
সাবেক জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, জেলা বিএনপির কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং স্থানীয় দুটি পক্ষই জমিরউদ্দিন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি খালেদা জিয়ার কাছে কমিটি জমা দিয়েছেন। সেটা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিটি অনুমোদন দিলে দ্বন্দ্ব কোন্দল নিরসন হবে।
পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে এবং বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব ও দলের বিরাজমান সাংগঠনিক সমস্যার নিরসন না করে জমিরউদ্দিন সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে তিনি নিশ্চিত পরাজয় বরণ করবেন। আর ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বেলায় তো কোনও কথাই নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জমিরউদ্দিন সরকার আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানের কাছে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তার জন্মস্থান তেঁতুলিয়ায় মাত্র ৩০০ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। কেন তিনি এত ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেন তা নিয়ে ৯-১০ বছরে একবারও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বসে আলোচনা করেননি বরং যাদের জন্য তিনি হেরেছেন তাদেরকেই কমিটিতে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মীরা পকেট কমিটি চান না। মাঠে থাকবে যারা কমিটিতে আসবে তারা। তৃণমূলের রায়ের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলরদের ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপির কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। জেলা ও উপজেলা বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলরদের ব্যালটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হোক। তাহলেই বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, কমিটি শুধু পঞ্চগড় নয়, দিনাজপুরসহ প্রায় ২০টি জেলায় নেই। কমিটি কোনও ব্যাপার না। যারা কাজ করবে তারা মনোনয়ন পাবে। মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারে। এখানে আমি কোনও গ্রুপিং দেখছি না। নির্বাচনের আগেই দ্বন্দ্ব-কোন্দল দূর হয়ে যাবে।দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য তখন সবাই কাজ করবে। তিনি বলেন, কিছু উচ্চাভিলাষী ব্যক্তির একটা গ্রুপ সিনিয়রিটি ক্লেম করে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণের জন্য আমার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি ম্যাডামের কাছে কমিটি জমা দিয়েছি। ম্যাডাম যতদিন না জেল থেকে বের হচ্ছেন ততদিন সেটা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে আব্দুল মজিদ কাজ করছেন। মজিদ যেটা লিড করছেন সেটাই হলো মেইন গ্রুপ। আমি যে কমিটি জমা দিয়েছি তা তো অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যাডাম যদি নির্বাচন করতে বলেন তাহলে করবো। তবে এ বয়সে নির্বাচন করা কি ঠিক হবে? এখানে আমার ছেলে বা অন্য যে কেউ মনোনয়ন পাক, নির্বাচনে সকলকেই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ
পঞ্চগড়-১ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় আশা করছি মনোনয়ন পাবো। মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেলে তিনি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। অবশ্য মহাজোটের শরিক দল জাসদ ইতোমধ্যে এ আসনে তাকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে। বিগত নির্বাচনে মশাল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় জাসদের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সুশীল সমাজের নবীন-প্রবীণ সংগঠকদের একটি অংশও তাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বামপন্থী সংগঠন, শিক্ষক, সমাজসেবক, চাকুরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে নিয়ে তিনি এলাকার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় অবস্থানকে সুসংহত করেছেন। দলের সব পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করছেন। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন বাদে অন্য সময় এলাকায় গণসংযোগ করেন।
নাজমুল হক প্রধান বলেন, সংসদীয় এলাকায় ব্যক্তি পর্যায়ে সবার সমস্যা নিরসন করা সম্ভব না হলেও সামগ্রিকভাবে জনগণের উপকার করার চেষ্টা করছি। মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি অনুযায়ী এখনও অনেক কাজ করা প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে পর্যায়ক্রমে এসব কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।
জাতীয় পার্টি
পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় পার্টির বিপুল সমর্থন রয়েছে। শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এক সময় জাতীয় পার্টির ভালো অবস্থান ছিল। কিন্তু নানা কারণে জাতীয় পার্টির আগের সেই জৌলুস আর নেই। এখন নির্বাচন এলে জাতীয় পার্টি নড়েচড়ে বসে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির নেতাকর্মীদের তেমন কোনও উচ্ছ্বাস না থাকলেও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে পার্টির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মহাজোটের মনোনয়ন চাইবেন। জাতীয় পার্টি জোটগতভাবে নির্বাচনে না গেলে তিনি এ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে একটি জিপ গাড়ির চতুর্দিকে পোস্টার আর মাইক লাগিয়ে শহর বন্দর গ্রাম ঘুরে গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ করছেন তিনি।
পঞ্চগড় জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মহাজোটের মধ্যে থেকে নির্বাচন করেছে। বিএনপি আসুক আর নাই আসুক এবারও জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আমি মনোনয়ন চাইবো। যদি জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে পৃথকভাবে নির্বাচন করে তাহলেও এ আসনে আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব। জোটগতভাবে হোক বা দলীয়ভাবে হোক এবার আমি নির্বাচিত হবো বলে আশা করছি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধানের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি এ আসনে একাধিকবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটার তাকে ভোট দিয়ে আসছেন। শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর তার সহধর্মিণী অধ্যাপক রেহেনা প্রধান জাগপার সভাপতি ও তার কন্যা ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা দুজনেই গোটা পঞ্চগড় জেলায় একাধিকবার গণসংযোগ করেন। এ সময় তারা সংগঠনকে পুনর্গঠন ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেন। এছাড়া মাঝে মাঝে এসে সভা সমাবেশ ও উঠোন বৈঠক করেন।২০ দলীয় জোট থেকে এই আসনে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই মনোনয়নের জন্য জোর লবিং শুরু করেছেন।
ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই বলেন, পঞ্চগড় নিয়ে আমার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমার বাবার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে জোটের হয়ে পঞ্চগড়-১ ও ২ এর যেকোনও একটি আসনে মনোনয়ন চাইবো। আমি দুটি আসনেই গণসংযোগ করছি। আমি ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবো। আশা করি, খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দেবেন এবং আমি জয়লাভে সক্ষম হবো।
স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে চায় জামায়াত
বিগত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। মামলা হামলা আর গ্রেফতার আতঙ্কে জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা না গেলেও তারা গোপনে সাংগঠনিক কার্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল খালেক চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি পরাজিত হন। বিগত পৌরসভা নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়ে হেরে যান। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন না হলে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল খালেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আবদুল খালেক বলেন, এর আগেও আমি পঞ্চগড়-১ আসনে জোটের হয়ে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবার দলীয়ভাবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।







