দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এই বোর্ডে পাশের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এবার পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ২ হাজার ৬৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। মোট পাশের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের পাশের হার ৮৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ আর ছেলেদের পাশের হার ৮২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪১ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৮২ জন।
গত বছর এই বোর্ডে পাশের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬২ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৭৫৫ জন। তবে গত বছরের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল, গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৮ জন। আর পাশ করেছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তোফাজ্জুর রহমান জানান, এবার কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। গত বছর যার সংখ্যা ছিল ৫টি। আর শতভাগ পাশকরা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৮টি, গত বছরে যার সংক্যা ছিল ৮৪টি। এবার দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল ভাল। বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ায় ফলাফল ভাল হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ভাল। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৯৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মানবিক বিভাগে পাশের হার ৭৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও বাণিজ্য বিভাগে পাশের হার ৮৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর সব বিভাগেই পাশের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করেছে। মেয়েদের পাশের হার ৮৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ আর ছেলেদের পাশের হার ৮২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এবারের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৪৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় মোট ২৬৭টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর জেলায় পাশের হার ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ জন। গাইবান্ধা জেলায় পাশের হার ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৭ জন। নীলফামারী জেলায় পাশের হার ৮৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন। কুড়িগ্রাম জেলায় পাশের হার ৮৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০৩ জন। লালমনিরহাট জেলায় পাশের হার ৮৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৫ জন। দিনাজপুর জেলায় পাশের হার ৮৫ দশমিক ২১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৯৪ জন। ঠাকুরগাঁও জেলায় পাশের হার ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫১ জন ও পঞ্চগড় জেলায় পাশের হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭২ জন।







