কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার

ধারণক্ষমতার চারগুণ বেশি বন্দি, পদে পদে দুর্ভোগ

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৪০আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৪

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার (ছবি– প্রতিনিধি)

ধারণক্ষমতার চারগুণের বেশি বন্দি রাখা হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে। কারা ওয়ার্ডগুলোতে জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় লোহার গ্রিল লাগিয়ে বন্দি রাখা হয়েছে। এত বন্দি নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, বন্দিদের ঘুমানো, গোসল করাসহ প্রতিদিন নানা কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কারা সূত্র জানায়, চারটি পুরুষ ওয়ার্ড ও দু’টি নারী ওয়ার্ড মিলে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ১৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ধারণক্ষমতা ১৪৫ এবং নারী বন্দি ধারণক্ষমতা ১৮ জন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকায় কারাগারে এখন বন্দিসংখ্যা ধারণক্ষমতার চারগুণ অতিক্রম করেছে। অতিরিক্ত চাপে ওয়ার্ডগুলোর বরান্দায় লোহার গ্রিল লাগিয়ে সেখানে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে মোট বন্দি রয়েছেন ৭৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭২২ এবং নারী বন্দি ২৭ জন।

সূত্র আরও জানায়, মোট বন্দির মধ্যে ১০৫ জন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ ও ৫ জন সাজাপ্রাপ্ত নারী রয়েছেন। অন্য সবাই বিচারাধীন মামলার বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামি তিন শতাধিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কারারক্ষী জানান, অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাগারের অভ্যন্তরের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। বন্দির চাপ সামাল দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলা কারাগারের জেলার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘জেলা কারাগারে সবসময় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকে। গরম মৌসুমে এ নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত বন্দির চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ জেলার আরও জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিলে কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, উপ-কারাগার হিসেবে যাত্রা শুরু করা এ কারাগার ১৯৮৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা কারাগারে রূপান্তরিত হয়। পৌনে সাত একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ কারাগারের অভ্যন্তরীণ আয়তন (মূল কারাগার) ৩.৮৬ একর।

/এমএ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানলের তাণ্ডব
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানলের তাণ্ডব
‘একবারে চোখ চোখ তুইলা ফালামু’—এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি
‘একবারে চোখ চোখ তুইলা ফালামু’—এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি
নতুন মেরুকরণের পথে কওমি ঘরানার ৭ ইসলামপন্থি দল, লাভবান হবে কারা?
নতুন মেরুকরণের পথে কওমি ঘরানার ৭ ইসলামপন্থি দল, লাভবান হবে কারা?
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন চীনের
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন চীনের
সর্বাধিক পঠিত
রান্নার সময় মাংস কেন সবুজ হলো, নতুন কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ
রান্নার সময় মাংস কেন সবুজ হলো, নতুন কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ
একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
সংগৃহীত নামগুলো থেকেই একজন রাষ্ট্রপতি হবেন: বিএনপি নেত্রী
সংগৃহীত নামগুলো থেকেই একজন রাষ্ট্রপতি হবেন: বিএনপি নেত্রী
‘মেয়েটি গাজী নজরুলের সেবা করতে চেয়েছিল’, জামায়াতের আরেক এমপি
‘মেয়েটি গাজী নজরুলের সেবা করতে চেয়েছিল’, জামায়াতের আরেক এমপি
আট মাস বাকি থাকতেই সভাপতিকে সরিয়ে নতুন সভাপতি এমপির স্ত্রী
আট মাস বাকি থাকতেই সভাপতিকে সরিয়ে নতুন সভাপতি এমপির স্ত্রী