মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান না নেওয়া অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর ইসলামের নতুন চাকরি হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকে তিনি দিনাজপুরের এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাড়িচালক পদে যোগ দেবেন। তার এ চাকরি পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। সোমবার (২৮ অক্টোবর) মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুর ইসলামের চাকরি হওয়ার বিষয়টি জানান হুইপ।
হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নুর ইসলামকে এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ড্রাইভার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকে তিনি কাজে যোগ দেবেন।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার এসএম তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। পরে বিভাগীয় কমিশনার এসএম তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে অবমাননার ঘটনায় সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দিনাজপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির একক সদস্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন। তিনি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এরআগে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম তার কার্যালয়ে নুর ইসলামকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। চাকরির সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।
তবে এবার হুইপের দেওয়া চাকরিতে নুর ইসলাম যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই নূরুজ্জামান। তিনি বলেন, নভেম্বর মাসে আমার ভাই চাকরিতে যোগ দেবে। তবে আমার বাবাকে অসম্মান করার ঘটনায় জেলা প্রশাসকও সম্পৃক্ত। মুক্তিযোদ্ধাকে অবমাননার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান এবং অবজ্ঞা করায় দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলমকে ওএসডি করে বদলির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। দাবি মানা না হলে জেলার সব মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সোমবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। এরআগে সকালে মুক্তিযোদ্ধাকে অবমাননার ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা লীগ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি সহদেব চন্দ্র রায়সহ অন্যরা অভিযোগ করেন, দিনাজপুরের ডিসি শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সঙ্গেই অন্যায় করেননি, তিনি এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে যৌন নির্যাতন করেছেন। যা ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ধরনের জেলা প্রশাসকের প্রয়োজন নেই।
উলেখ্য, ছেলেকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করার ক্ষোভে দাফনের সময় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নেবেন না বলে জানান অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন। মৃত্যুর দুই দিন আগে নিজের ক্ষোভ-দুঃখের কথাগুলো লিখে রেখে যান স্বজনদের কাছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তিনি মারা গেলে পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নূর ইসলাম।
আরও পড়ুন:
‘শেষ ইচ্ছা’য় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন!
ডিসির দেওয়া চাকরি নেবেন না অভিমানী সেই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে








