ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রাম থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহখণ্ড উদ্ধারের ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন মিয়া পাড়া থেকে দিনমজুর মোজাফ্ফর ও তার দুই মেয়ে মিতু (১৫) ও সিতুকে (১১) আটক করে ময়মনসিংহের ডিবি পুলিশের সদস্যরা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
মিয়া পাড়ায় মোজাফ্ফরের বাড়িতে গিয়ে তার ছোট ছেলে রাসেলের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
রাসেল জানায়, তার বড় বোন মৌসুমির স্বামীর বাড়ি ময়মনসিংহে। গত ২০ অক্টোবর মৌসুমি ও তার ননদ রিয়া কুড়িগ্রামে আসেন। ওইদিন তাদের সঙ্গে একটি বড় ব্যাগ ছিল। পরে রাতে তারা ওই ব্যাগ নিয়ে বাড়ির বাইরে যান। পরেরদিন সোমবার (২১ অক্টোবর) মৌসুমির স্বামী এসে তাকে নিয়ে যান। তবে রিয়া তাদের বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানান রাসেল। পরে রবিবার (২৭ অক্টোবর) রিয়াও চলে যান।
মৌসুমির ছোট বোন মিতু ও সিতুর উদ্ধৃতি দিয়ে রাসেল আরও জানায়, মৌসুমি ও রিয়া যে ব্যাগ নিয়ে এসেছিল, সেই ব্যাগের ভেতর রিয়ার স্বামীর দেহখণ্ড (দুই হাত, এক পা ও মাথা) ছিল। এটা মিতু আর সিতু দেখেছে বলে ডিবি পুলিশকে জানিয়েছে। এরপরই ডিবি পুলিশ মিতু ও সিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। তবে মৌসুমির স্বামী ও রিয়ার স্বামীর নাম কী, রাসেল তা জানাতে পারেনি।
রাসেল আরও জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে রিয়ার স্বামীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহে লাগেজের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির হাত-পা ও মাথাহীন দেহ পায় পুলিশ। একই দিন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পশ্চিম কল্যাণ গ্রামের একটি পুকুরপাড় থেকে পুলিশ দেহ বিচ্ছিন্ন একটি পা উদ্ধার করে। পরেরদিন (২২ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপাশা ইউনিয়নের নাককাটি বাজার সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন মাথা, দুই হাত ও এক পা উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
লাগেজের ভেতর হাত-পা ও মাথাবিহীন লাশ
ময়মনসিংহে লাগেজ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের বিচ্ছিন্ন পা কুড়িগ্রামে!








