বিরামপুর স্টেশনে টিকিট সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হিলি প্রতিনিধি
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৬আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯

 

বিরামপুর রেলস্টেশন যাত্রীর চাপ থাকলেও পর্যাপ্ত টিকিট পাচ্ছেন না দিনাজপুরের বিরামপুর ও আশপাশের এলাকার ট্রেনের যাত্রীরা। টিকিটের অপর্যাপ্ততায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার  যাত্রীদের। অপরদিকে বিরামপুর স্টেশনে বিশ্রামাগার ও টয়লেট না থাকায় এবং প্লাটফর্ম ছোট হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীসেবার মান বাড়লে ও টিকিট সংকট কেটে গেলে এই রুট থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।

স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১২ কিলোমিটার পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলা, চৌদ্দ কিলোমিটার দক্ষিণে হাকিমপুর উপজেলা ও হিলি স্থলবন্দর এবং ছয়চল্লিশ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ঘোড়াঘাট উপজেলা। নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাটে কোনও রেলস্টেশন নেই। হিলিতে রেলস্টেশন থাকলেও সেখানে আন্তঃনগর ট্রেনের নেই যাত্রাবিরতি। এ কারণে ওইসব এলাকার যাত্রীদের বিরামপুর থেকেই চলাচল করতে হয়। কয়েকটি উপজেলার যাত্রীরা এই স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করলেও বাড়ানো হয়নি টিকিটের সংখ্যা।

বিরামপুর স্টেশন বিরামপুর স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা কলেজছাত্র আরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ছাত্র মানুষ, পড়ালেখার জন্য আমাদের অনেক সময় চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনায় যেতে হয়। কিন্তু বিরামপুর স্টেশন থেকে চলাচলে আমরা টিকিট পাই না, অনেক সময় টিকিট পেলেও কোনও সিট পাই না। তাই এই স্টেশনে আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

খুলনার উদ্দেশ্যে বিরামপুর স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা নাসিমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে স্টেশনে বসে আছি। স্টেশনের বিশ্রামাগার বসার অযোগ্য হওয়ায় তালাবদ্ধ রয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে প্লাটফর্মে বসে আছি। স্টেশনে কোনও টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এসব সমস্যার সমাধান হলে আমরা ভালো যাত্রীসেবা পেতাম।

 ট্রেন ধরতে আসা মিনহাজুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকাগামী ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন যাতায়াত করলেও আসন সংখ্যা সীমিত। এতে করে আমরা চাহিদামতো টিকিট পাই না। এই স্টেশন থেকে এসি কেবিন ও চেয়ারের কোনও টিকিট বরাদ্দ নেই। যাত্রীছাউনি যেটি রয়েছে, তা আকারে বেশ ছোট। যে কারণে রোদ বৃষ্টির সময় যাত্রীদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়।

টিকিট সমস্যা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরামপুর রেল স্টেশনের এক কর্মী বলেন, দ্রুতযান ট্রেনে পূর্বে ৩৪টি সিট বরাদ্দ ছিল। কিন্তু দ্রুত যান ট্রেন পঞ্চগড় পর্যন্ত যাত্রা শুরু করলে বিরামপুর স্টেশের জন্য পূর্বের বরাদ্দ কমিয়ে বর্তমানে ২৫টি সিট দেওয়া হয়।

বিরামপুর রেলস্টেশনের বুকিং সহকারী মোর্শেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকা এবং খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত ৫০টি শোভন চেয়ারের টিকিট প্রয়োজন। এছাড়াও দশটি এসি চেয়ার ও পাঁচটি স্লিপার আসন বরাদ্দ হওয়া দরকার। রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এবং তিতুমীর এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত ২০টি আসন বরাদ্দ দিলে যাত্রীদের সুবিধা হতো বলে জানান তিনি।

বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নিরাপদ যাত্রার জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ট্রেন প্রিয় বাহন। বিরামপুর উপজেলা একটি প্রস্তাবিত জেলা শহর, চারটি উপজেলার কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই অন্যান্য উপজেলার রেলযাত্রীরা বিরামপুর স্টেশন ব্যবহার করেন। এ অবস্থায় বিরামপুর স্টেশনের জন্য টিকিটের বরাদ্দ বাড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

 হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। হিলিতে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে আসা বিশেষ করে ভারতের ব্যবসায়ীদের বিরামপুর স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু স্টেশনটি থেকে পর্যাপ্ত আসন বরাদ্দ না থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বিরামপুর স্টেশন মাস্টার জয়ন্ত কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিরামপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এই স্টেশন থেকে আশপাশের চার উপজেলার মানুষ চলাচল করেন। দিন দিন যাত্রীর সংক্যা বাড়ছে। যাত্রীদের প্রচুর চাপ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী টিকিট বরাদ্দ নেই। এখানে এসি কেবিন ও এসি চেয়ারকোচের বরাদ্দ নেই, কিন্তু তার বিপরীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী এ পথে চলাচল করেন। যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। তাই আসন বৃদ্ধি ও যাত্রীদের নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিরামপুর রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি করা সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোচ সংখ্যা বাড়লে বিরামপুরের জন্য আসন সংখ্যাও বাড়বে।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের