দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা ছিল ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত বাড়ায় শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশায় দুর্ভোগ বাড়ছে ছিন্নমূল ও দরিদ্র্য মানুষের।বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শীতের শুরুতে রাতের তাপমাত্রা কম থাকলেও সকালে সূর্য ওঠায় সেভাবে শীত অনুভূত হয়নি। তবে গত দু’দিনের আবহাওয়া একেবারেই ভিন্ন। সেভাবে সূর্যের দেখা মিলছে না। সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশা। বিকাল থেকেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করে। রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। আর ভোর থেকে চারপাশে থাকে ঘনকুয়াশা। রাস্তাঘাট ও হাটবাজার মানুষের চলাচল কম। কুয়াশার জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
মাঘের শুরুতেই শীত জেঁকে বসায় গরিব লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশার কারণে তারা দুর্ভোগে পড়েছেন।খড়কুটো জ্বালিয়ে লোকজন শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কাজে যেতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।স্বল্প আয়ের মানুষ ভিড় করছেন পুরনো কাপড়ের দোকানে। এরই মধ্যে গরিব লোকজনের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা শহরের রিকশাচালক আজগর আলী জানান,ঘনকুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাট-বাজার রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল কমে গেছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে রিকশা চালানো যাচ্ছে না।
শহরের মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘এবার খুব শীত লাগছে। আগে সকাল সকাল সূর্য দেখা যেত। কিন্তু গত ক’দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।’
সদর উপজেলার লাঙ্গলগাঁও গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কৃষকদের আবার শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাবাদল। কাজ করে খেতে হবে। তাই সকাল সকাল হালচাষ শুরু করেছি।’
মালাদাম এলাকার আমিনার রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার এই মৌসুমের দীর্ঘস্থায়ী ঘনকুয়াশা ছিল। শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঠান্ডাটা বেশি মনে হচ্ছে।’
হাড়িভাসা ইউনিয়নের সলেমান আলী জানান, শহরের তুলনায় গ্রামে শীতের প্রকোপ বেশি। ছিন্নমূল, দিনমুজর মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন।খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। বহিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে ১৫-২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। সুস্থ হয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছে। শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের বাইরে বের না করা এবং ঠান্ডা খাবার না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এলাকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।







