আম-লিচু নয়, লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী মামুনুর

হিলি প্রতিনিধি
১১ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৯ আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৬

লেবু বাগান


পড়ালেখা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে আম-লিচুর বাগান করেন মামুনুর রশীদ। কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে লেবু চাষ শুরু করেন। সারাবছরই লেবুর ভালো চাহিদা থাকায়, বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে বাড়তি চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় লেবু চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন তিনি। তার এমন সাফল্য দেখে অনেকেই লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 

বাগান থেকে সংগ্রহ করা লেবু

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেপারিটোলা গ্রামের মামুনুর রশীদ সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ৫৫০টি থাই জাতের লেবুর চারা লাগান এবং ১ হাজার ১৫০টি দেশীয় জাতের লেবুর চারা লাগিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে তার বাগানে লেবুর ফলন শুরু হওয়ায় বিক্রি শুরু করেন। এছাড়াও গাছের কলম তৈরি করে কলম বিক্রি শুরু করেছেন।

লেবু বাগান

 মামুনুর জানান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে লেখাপড়া শেষ করে বাড়িতে আসি। এরপরে চাকরির পেছনে না ছুটে ৭ বিঘা জমিতে গড়া পারিবারিক আম-লিচুর বাগানসহ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ি। কিন্তু আম-লিচুর বাগানে পরিশ্রম ও ব্যয়ের তুলনায় টাকা আসতো না। বছরে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হতো। এজন্য বিকল্প চিন্তা শুরু করি। এরপর বাগানে ১০০টির মতো লেবু গাছ লাগাই। এরপরে ইউটিউবে বিভিন্ন ব্যক্তির লেবু চাষের সাফল্য দেখে লেবুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। তখন চিন্তা করি এমন কোনও লেবুর গাছ পাওয়া যায় যে গাছে সারাবছর লেবু ধরবে ও প্রতিদিন লেবু তুলে যেন ৩-৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর যশোরের বেনাপোল থেকে সেই জাতের লেবুর খোঁজ পেলাম। সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করলাম। তারপর পাঁচ বছর আগে ২০ বছর বয়সী আম-লিচুর গাছগুলো কেটে সেখানে লেবুর বাগান করি। তখন সবাই আমাকে পাগল বলে ভর্ৎসনা করছিলেন। পাঁচ বছর পর এখন আমার লেবুর বাগানে লেবুর ফলন এবং লাভ দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। বর্তমানে আমার বাগান থেকে উৎপাদিত লেবু বিক্রি করে বছরে ৩-৪ লাখ টাকা আয় করছি।

লেবু বাগান

পাশাপাশি তিনি গাছের কলম করেও বিক্রি শুরু করেছেন। ২৫ হাজার টাকার কলম চারা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি লেবু পাইকারিতে ৩ টাকা ও কলম চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেবুর গাছের যে পরিমাণ চাহিদা তাতে করে এ বাগান থেকে প্রতিবছর ৩-৪ লাখ টাকার কলম চারা বিক্রি হবে। 

লেবু বাগান
বাগানে কর্মরত শ্রমিক জাহিদ ও চঞ্চল বলেন, আমরা সাধারণত পড়ালেখার পাশাপাশি যে অবসর সময় থাকে সে সময়টুকু মামুন ভাইয়ের লেবুর বাগানে কাজ করে থাকি। আমাদের মতো এখানে ১৫-২০ জন ছাত্র পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের একটা বাড়তি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে যেটা আমাদের অনেকটা সুবিধা হয়েছে। তার মতো স্থানীয়রা যদি এমন বাগান করতো তাহলে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।

লেবু বাগান

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, বিরামপুরে বর্তমানে লেবু চাষে ব্যাপক সফলতা দেখা যাচ্ছে। এখানে কৃষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবু চাষ করছেন। একইসঙ্গে লেবুর চারা তৈরি করে তা বিক্রি করছেন যা থেকেও ভালো আয় করছেন চাষিরা। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করে আসছি লেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় বিরামপুরে এর ভালো প্রসার ঘটবে বলেও জানান তিনি।

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রমজানে ১০ পণ্যের আমদানি ও এলসি শর্ত সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ
রমজানে ১০ পণ্যের আমদানি ও এলসি শর্ত সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ
অগ্রণী ব্যাংকে জমা রাখা ৩০ কোটি টাকা উধাও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে গ্রাহকরা
অগ্রণী ব্যাংকে জমা রাখা ৩০ কোটি টাকা উধাও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে গ্রাহকরা
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন, যা বলছে পুলিশ
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন, যা বলছে পুলিশ
এবার খিলক্ষেত থানা ও রেডিসন হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
এবার খিলক্ষেত থানা ও রেডিসন হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
সর্বাধিক পঠিত
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা
প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা