হাসপাতালের বেড বাসায় নিচ্ছিলেন চিকিৎসক, আটকালো জনতা

রংপুর প্রতিনিধি
১৬ জুন ২০২১, ১৯:৫৭আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২৩:২৭
image

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী থাকার একটি বেড কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাড়িতে নেওয়ার সময় এক চিকিৎসককে আটক করেছেন এলাকাবাসী।

বুধবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রংপুর নগরীর বুড়িরহাট রোড এলাকার কমিউনিটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে বেডসহ ওই চিকিৎসককে আটক করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম একেএম শাহীনুর রহমান। তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার। পাঁচ বছর ধরে হাসপাতালটিতে চাকরি করছেন। গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, আজ দুপুরে ভ্যানে করে হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহৃত একটি বেড নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তারা ভ্যানটিকে আটক করে। এ সময় ডা. শাহীনুর রহমান স্বীকার করেন, এটি তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। অনুমতিপত্র বা কোনও বৈধ কাগজপত্র আছে কি-না জানতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে এলাকাবাসীর বাগবিতণ্ডা হয়।

খবর পেয়ে বাংলা ট্রিবিউনের রংপুর প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে চিকিৎসক শাহীনুর রহমান জানান, তার মা দেড় মাস ধরে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। বর্তমানে কেবিনে রাখা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে নেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়িতে যাতে থাকতে অসুবিধা না হয়, এ কারণে হাসপাতালের স্টোর রুমে পড়ে থাকা পুরনো বেডটি লিখিত দিয়ে তিনি বাসায় নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়াতে তা আটক করে। কোনও প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বেডটি হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ চিকিৎসক বলেন, আমি দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছি। হাসপাতালের সম্পদ নষ্ট হোক, এমনটা কখনও করিনি। শুধুমাত্র মানবিক দিক থেকে নিজের মায়ের থাকার সুবিধার কথা চিন্তা করে স্টোরকিপার বেলাল ও ৩০নং ওয়ার্ড ইনচার্জ মমতাকে অবগত করে মুচলেকার মাধ্যমে বেডটি নিয়েছিলাম। আমার অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিলো না। তবে আজকের ঘটনার পর অনুভব করছি, এটা নেওয়া আমার ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের স্টোরকিপার বেলাল হোসেন এবং ৩০নং ওয়ার্ড ইনচার্জ মমতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বেডটি তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে আইনগতভাবে তার বেড নিয়ে যাওয়া সঠিক হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতাল থেকে সরকারি বেড নিয়ে যাওয়ার আগে আমাকে জানানো হয়নি। তবে ওই চিকিৎসক তার মায়ের জন্য স্টোরকিপার ও ওয়ার্ড ইনচার্জকে অবগত করে হাসপাতালের পুরাতন একটি বেড বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে শুনেছি। পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই হাসপাতাল থেকে বেডটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

/এফআর/
সম্পর্কিত
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
‘চীনের অর্থায়নে হচ্ছে ৫টি নারী হাসপাতাল’ 
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম