রংপুরের বদরগঞ্জে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বিয়ের দিন এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (০১ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত বুধবার (২৮ জুলাই) ভোরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ছাত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। উপজেলার লোহানিপাড়া ইউনিয়নের সাজানো গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাদ্রাসাছাত্রী সাজানো গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, মিঠাপুকুর উপজেলার পশ্চিম বড়বালা এলাকায় ওই ছাত্রীর বড় বোনের বিয়ে হয়। বড় বোনের আত্মীয়তার সম্পর্কে ওই এলাকার মোনায়েম হোসেনের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন তাকে কয়েক দফায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে বিয়ে করার জন্য বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এলাকায় বখাটে হিসেবে শাখাওয়াতের পরিচিতি থাকায় মেয়ের পরিবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় শাখাওয়াত।
গত বুধবার ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শাখাওয়াত তাদের বাড়ির কাছে যায়। এরপর তাকে মোবাইলে ডেকে এনে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হামিদুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ছাত্রীর বাবা। মৃত্যুর আগে হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রীর জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ। জবানবন্দিতে শাখাওয়াতের নাম বলে যায় ছাত্রী।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মৃত্যুর আগে ঘাতকের নাম বলে গেছে ছাত্রী। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধায় স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। শাখাওয়াতকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।









