মা ও ছেলেকে অপহরণ মামলার আসামি রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হকের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। এ সময় দিনাজপুর আদালতের পুলিশের এসআই সবুজ আলী জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে বিচারক শিশির কুমার বসু তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে রাখার আদেশ দেন।
দিনাজপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সকালে আদালত শুরুর সময় ওই তিনজনের জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক জামিন দেননি। এর আগেও তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছিল।’
জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মিন্টু পাল বলেন, ‘সিআইডির এএসপি, এএসআই ও কনস্টেবলের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। জামিনের আবেদনে বিভিন্ন যুক্তি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। যেহেতু করোনাকালে সশরীরে আদালতে উপস্থিত আইনসিদ্ধ না, তাই আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি।’
জানা গেছে, চলতি মাসে পলাশ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই সালেমান শাহ পাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের বাড়িতে ৬/৭ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে। এ সময় তারা নিজেদেরকে ডিবি ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ির আলমারি, শোকেস, ড্রয়ারসহ বিভিন্ন স্থান তছনছ করে। পরে তারা লুৎফর রহমানকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা স্বজনদের ফোন করে অপহৃতদের উদ্ধারের জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই মধ্যে পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের আট লাখ টাকা দিতে চায়।
সে টাকা নিতে ও ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দিতে ২৪ আগস্ট বিকালে বাঁশেরহাট এলাকায় এলে সেখানে ওত পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা অপহরণকারীদেরকে আটক করে। এই ঘটনায় অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাস চালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিহ উল আলম পলাশকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন- চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের মৃত এন্তাজুল হকের ছেলে আরেফিন শাহ, শহরের ৬নং উপশহর খেরপট্টি এলাকার সোহেল, সুইহারী চৌরঙ্গী বাজারের রিয়াদ, ২নং উপশহর এলাকার সুমন ও ৩নং উপশহর এলাকার জাহিদ।









