জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চার দিন ধরে চলা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভাড়া বাড়ায় পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) সকাল থেকে বন্দরে পণ্য নেওয়ার জন্য ট্রাকগুলো প্রবেশ করছে। যথারীতি বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যাচ্ছে। তবে যে হারে তেলের দাম বেড়েছে সে তুলনায় ভাড়া বাড়েনি বলে দাবি ট্রাকচালকদের।
হিলি স্থলবন্দরে পণ্য নিতে আসা ট্রাকচালক মোস্তাকিম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিলি থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকা যাওয়া-আসায় যে তেল লাগতো এখনও সেই পরিমাণ লাগছে। ১৪০ লিটারের মতো তেল লাগে আমাদের। কিন্তু তেলের দাম যে লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে সে হিসাবে ভাড়া বাড়েনি। আগে যে ভাড়া ছিল তার চেয়ে ৫০০ কিংবা এক হাজার টাকা বেড়েছে। কিন্তু তেলের জন্য আমাদের বাড়তি লাগছে দুই হাজার ১০০ টাকা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় বেড়েছে। ট্রাক ভাড়া বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব বাজারে পণ্যের দামের ওপর পড়ে। যে পণ্য আমরা বন্দর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতাম ৩০ হাজার টাকায়, তা এখন বেড়ে ৪০ হাজারে পড়বে। এ ছাড়া একট্রাক পেঁয়াজ আগে ঢাকায় পৌঁছাতে ২০ হাজার টাকা লাগলেও এখন ২৬-২৭ হাজার টাকা লাগবে। ফলে বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়বে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে ট্রাকের ভাড়া বেড়ে গেছে। পাথরের টনপ্রতি ভাড়া ছিল ৯০০ টাকা; তা এখন এক হাজার ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে পাথর সরবরাহের জন্য যেসব আমদানিকারক চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, ভাড়া বাড়ায় সেসব প্রজেক্টে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী শাহিনুর রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের পণ্য পরিবহনে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দেয়নি। আলোচনা হওয়ায় আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করে যদি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়, তাহলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে না। এমনকি বাজারেও প্রভাব পড়বে না।
স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গত চার দিন ধরে যে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত ছিল, তার প্রভাব বন্দরে পড়েনি। বন্দরে যথারীতি বাংলা ট্রাক প্রবেশ করেছে, বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গেছে। তবে তা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ছিল। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে ট্রাক প্রবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। যথারীতি এসব ট্রাক পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।








