দিনাজপুরে তাপমাত্রার পারদ নামছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিনাজপুরেও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে বলে জানিয়ে আবহাওয়া অফিস।
আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৮৪ শতাংশ, গতিবেগ ৪-৬ কিলোমিটার। রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি।
আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমছে। কয়েক দিনের মধ্যে এই জেলার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে।
তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে।
হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে আরও কয়েকগুণ। সকালে ঘন কুয়াশা ঝরছে। ফলে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে তেমন বের হচ্ছে না।
কালিতলা এলাকার ইজিবাইকচালক রহমত আলী বলেন, ‘ভোরে ইজিবাইক নিয়ে বের হই। কারণ এই সময়টাতে ইজিবাইক কম থাকে। তাই উপার্জনও বেশি হয়। কিন্তু আজ সকালে বের হয়ে দেখি ইজিবাইকের হ্যান্ডেল ধরে রাখতে পারছি না। খুব কষ্ট করে ইজিবাইক চালাতে হচ্ছে।’
আরেক ইজিবাইক চালক পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সকালে ঠান্ডার কারণে যাত্রীও কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সকালে ইজিবাইক নিয়ে কষ্ট পোহাতে হয়েছে। আর উপার্জনও তেমন হচ্ছে না।’
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশায় অনেক ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়।
সদর উপজেলার দক্ষিণনগর গ্রামের কৃষক বেনু রাম সরকার বলেন, শীতে বিশেষ করে কুয়াশা বাড়লে আলুর মড়ক দেখা দেয়। তাই কুয়াশা ঝরলে আমাদের চিন্তা হয়। শুধু আলুই নয়, টমেটোর ক্ষেতেও মড়ক দেখা দেয়। শীত বেশি হলে বোরো বীজতলাতেও সমস্যা হয়। যদিও টমেটোর ক্ষেত ও বোরো বীজতলা এখনও তেমনভাবে তৈরি শুরু হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ প্রদীপ কুমার গুহ বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এই সময়ে যাতে কুয়াশা বা শীতের কারণে কোনও ফসলের ক্ষতি না হয়, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ও প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।









