সৈয়দপুর হাসপাতালের ২ অ্যাম্বুলেন্সই বিকল, বেড়েছে ভোগান্তি

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী 
২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০১আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০১

প্রায় ১০ লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির  রোগী বহনের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো হয়ে সাত মাস ধরে পড়ে আছে। এতে  জরুরি প্রয়োজনে সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিতে হচ্ছে তাদের। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছে গরিব রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে কেনা জাপানি মিৎসুবিশি কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন বিকল। আর ২০১৬ সালে কেনা ভারতীয় টাটা কোম্পানির অপর অ্যাম্বুলেন্সটির পাম্পের সমস্যা ও টায়ার নষ্ট। ১৮ বছর ও ১১ বছর বয়সী অ্যাম্বুলেন্স দুটি হাসপাতালের গ্যারেজে ফেলে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মেরামতের নেই কোনও উদ্যোগ। 

সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স মালিক চক্রের সঙ্গে আঁতাতের কারণেই এ অবস্থা।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক সোহেল আহমেদ জানান, প্রতিদিনই ৫-১০ জন রোগীকে খারাপ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ বা দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে হয়। রংপুর-দিনাজপুর রোগী পরিবহনে আমাদের সরকারি ভাড়া ৯০০ টাকা। আর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে খরচ হয় ১২০০-১৫০০ টাকা। এতে রোগীদের বাড়তি খরচ হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিন্ডিকেটের কারণে ইচ্ছাকৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ফেলে রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নবিউর রহমান। 

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স দুটি চার-পাঁচ মাস হলো বিকল হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিমের ডিও লেটার নিয়েও কাজ হচ্ছে না। কবে নাগাদ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে সে বিষয়েও তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তবে বাজেট পেলেই মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি। 

নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ওই হাসপাতালে একজন তত্ত্বাবধায়ক আছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন। 

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নীলফামারী সদর, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, খানসামা উপজেলাসহ আশাপাশের এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা নেন। এ কারণে হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই’
‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই’
ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২
ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২
ক্রিকেট বিশ্বকাপের ভেন্যু চূড়ান্ত, থাকছে তিন দেশের ১২ স্টেডিয়াম
ক্রিকেট বিশ্বকাপের ভেন্যু চূড়ান্ত, থাকছে তিন দেশের ১২ স্টেডিয়াম
সৌদির নেতৃত্বে সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ
সৌদির নেতৃত্বে সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ
সর্বাধিক পঠিত
২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালানোর সময় দুই কর্মকর্তা ধরা
২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালানোর সময় দুই কর্মকর্তা ধরা
ডা. মুরাদ হাসানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ
ডা. মুরাদ হাসানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ
বৈঠক করে যাওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসএমএসে সুখবর দিলেন ট্রাম্পের দূত
বৈঠক করে যাওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসএমএসে সুখবর দিলেন ট্রাম্পের দূত
আবারও অধিনায়ক সাকিব, প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশকে 
আবারও অধিনায়ক সাকিব, প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশকে 
এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত