কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শহরের নালিয়ার দোলায় ২৫০ একর জমি বরাদ্দের জন্য সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম শহরের দক্ষিণ প্রান্তে কেতার মোড় সংলগ্ন সদরের মোঘলবাসা ও বেলগাছা ইউনিয়নে নালিয়ার দোলা অবস্থিত। এই স্থানে সরকারের ৮৫ দশমিক ৩৪ একর খাস জমি রয়েছে। ওই জমি এক ফসলি এবং এর পাশ দিয়ে কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথ ও সড়কপথ গেছে। নালিয়ার দোলার পশ্চিমে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্প নগরীর অবস্থান। এছাড়া পূর্বে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে ধরলা নদী। ফলে স্থানটি নৌ-যোগাযোগ ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও শহর থেকে কাছে হওয়ায় স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযুক্ত মনে করে জমি বরাদ্দের সুপারিশ করে ইউজিসির টেকনিক্যাল কমিটি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো জেলা প্রশাসনের পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পাঠানো চিঠির স্বারকের বরাতে বলা হয়েছে, ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের নিমিত্ত মোঘলবাসা ইউনিয়নের বাঞ্ছারাম মৌজা এবং বেলগাছা ইউনিয়নের সড়া মৌজায় অবস্থিত নালিয়ার দোলায় ২৫০ একর জমির বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ডিসেম্বর মাসের শুরুতে জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পরই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন নালিয়ার দোলা পরিদর্শন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫০ একর জমি চিহ্নিত করতে তারা একটি খসড়া ম্যাপও তৈরি করেছেন। তবে ম্যাপ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নালিয়ার দোলায় প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের জন্য কেতারমোড় থেকে মোঘলবাসাগামী সড়কের দক্ষিণে নালিয়ার দোলায় ২৫০ একর জমি নির্ধারণের কাজ চলছে। নালিয়ার দোলার উত্তরে মোঘলবাসা সড়ক থেকে দক্ষিণে যতিনের হাটের পূর্ব প্রান্তের মোস্তফার ইটভাটা পর্যন্ত মোঘলবাসা ইউনিয়নের বাঞ্ছারাম মৌজা, বেলগাছা ইউনিয়নের সড়া ও কল্যাণ—এই তিন মৌজা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫০ একর জায়গা নির্ধারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে রেলপথ সংলগ্ন রেলের জমি অধিগ্রহণের আওতামুক্ত থাকবে। শুধুমাত্র উন্মুক্ত স্থান থেকে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হতে পারে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পর নালিয়ার দোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, এ মাসেই (ডিসেম্বরে) মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।’







