হিলিতে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ

হিলি প্রতিনিধি
০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:৩৫ আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:৩৫

দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে শীত জেঁকে বসেছে। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের মাত্রা আরও বেড়েছে। তীব্র শীতে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সন্ধ্যা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা। কোনও কোনও দিন সূর্যের দেখাও মিলছে না। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা কমায় শীত পুরোপুরি জেঁকে বসেছে। শীতে কাজে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সেই সঙ্গে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তানকে নিয়ে আসা খাদিজা আকতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘দুই দিন আগে রাতে হঠাৎ করে আমার বাচ্চার বমি শুরু হয়। ১৫-২০ বার বমি করার পর, সেই সঙ্গে ঠান্ডা লাগায় পরদিন সকাল থেকে পাতলা পায়খানা শুরু করে। অন্তত ২০-২৫ বার পাতলা পায়খানা করে। এরপর স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়াই। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসক দেখে ওষুধ লেখে দেন। এরপর সেগুলো কিনে নিয়ে বাসায় চলে যাই। বাসায় আসার পর থেকে আবারও বমি ও পাতলা পায়খানা আরও বড়ে যায়। তােই আবারও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছি।’

শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত শিশু ও বয়স্করা

সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আরেক নাকি মোস্তারা বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে খুব ঠান্ডা পড়ছে। কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা। শীতে বাচ্চার হঠাৎ করে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। সেজন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ডাক্তার দেখে ওষুধ দিয়েছেন।’

সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আরেক নারী রোকসানা খাতুন বলেন, ‘আমার বাচ্চা একবার যখন বমি করলো তখন মনে করছি তার গায়ে হয়তো বাতাস লাগছে। সে কারণে হুজুরের কাছ থেকে পানি পড়া নিয়ে খাওয়াইছি। তারপরও বমি করছে। সেই সঙ্গে পাতলা পায়খানা করতে শুরু করে। এরপর আমরা বাড়ির পাশের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে এসে খাওয়াইছি। তারপরও সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’

দিনমজুর ইনছান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মাঠে শ্রমিকের কাজ করি। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও বাতাস বেড়ে যাওয়ায় তীব্র শীত পড়ছে। এর মধ্যে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা লেগে  রক্ত আমাশা দেখা দিয়েছে। কাজ করতে পারছি না। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।’

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার কামরুন্নাহার আজাদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে হাকিমপুর উপজেলায় শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছে। তাই হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী শিশু ও বয়স্ক। রোগীদের চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সবাইকে অবশ্যই গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। অযথা বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।’

দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদফতরের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান জানান, আজ দিনাজপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
ডেঙ্গুতে আরও তিন জনের মৃত্যু
সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে চাওয়া মাসুদ উদ্দিনের আবেদনের শুনানি পেছালো
প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক সেবা
সর্বশেষ খবর
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে গণমাধ্যমকে জাতীয়তাবাদী বয়ানের বাইরে আসতে হবে: রিয়াজ আহমেদ
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে গণমাধ্যমকে জাতীয়তাবাদী বয়ানের বাইরে আসতে হবে: রিয়াজ আহমেদ
রাস্তার কাজে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারের গাড়ি নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা
রাস্তার কাজে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারের গাড়ি নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা
বাংলাদেশ দলে হামজাসহ প্রবাসীদের দেখে অবাক পাকিস্তানের কোচ
বাংলাদেশ দলে হামজাসহ প্রবাসীদের দেখে অবাক পাকিস্তানের কোচ
শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বললেন, ‘তাকে দেশে আসতে না করেছে কে’
শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বললেন, ‘তাকে দেশে আসতে না করেছে কে’
সর্বাধিক পঠিত
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
রেডি হও জামায়াত, তোমাদের উপযুক্ত জায়গা পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া 
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’