ক্রেতা সংকটে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। আইপি জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে ট্রাকে বস্তাভর্তি থাকায় অতিরিক্ত গরমে অধিকাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ৫-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লোকসানে পড়েছেন আমদানিকারকরা। তবে ভালো মানের পেঁয়াজ ৩২-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তারা।
গত ৫ জুন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরদিন থেকে হিলি দিয়ে আমদানি শুরু হয়। বন্দরে ভালো মানের পেঁয়াজ ৩২-৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে তা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।
হিলির গুদামে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পেঁয়াজের গাড়িগুলো ভারতে লোডিং অবস্থায় বেশিদিন থাকায় অতিরিক্ত গরমে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আমদানিকারকরা ভালো মানের পেঁয়াজগুলো বিক্রি করে পচে যাওয়াগুলো গুদামে রেখেছেন। কিন্তু গুদামে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা সেগুলো ৫-৭ টাকা কেজি দরে কিনছি।’
হিলির বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘৫ টাকা কেজিতে তিন বস্তা কিনেছি। বাড়িতে নিয়ে বাছাই করে ভালোগুলো ১৫-২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করবো। যেগুলো পচা সেগুলো ফেলে দেবো।’
সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা পেঁয়াজ কিনতে পারছি না, আর গুদামে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবু ৫ টাকা কেজিতে গুদাম থেকে দুই বস্তা কিনেছি। বাছাই করে ভালোগুলো রাখবো, বাকিগুলো ফেলে দেবো। এতে কয়েকদিন চলবে।’
হিলির গুদাম ম্যানেজার পরিতোষ কুমার বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ পচে গেছে। পেঁয়াজগুলো দেশে আসতে দুই-চার দিন দেরি হয়েছে। সেগুলো ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে। তবু বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছি।’
বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রেজা বলেন, ‘আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর আইপি জটিলতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে ট্রাকে বস্তাভর্তি থাকায় অতিরিক্ত গরমে অধিকাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়েছে। এখন সেগুলো ৫-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে—বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর আমদানিকারকরা ভারতীয় রফতানিকারকদের ট্রাকে পেঁয়াজ লোডিং করতে বলেন। সে পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকগুলো দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দিতে ১৫-২০ দিন দেরি করেছে। ফলে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনুমতি দেওয়ার পর ট্রাকগুলো যখন আসছে, সেগুলোতে কয়েক বস্তা ছাড়া সব পচা পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাড়তি দামে কেনা পেঁয়াজ এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
বন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমদানির অনুমতি না থাকায় গত ১৬ মার্চ থেকে হিলি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। অনুমতি দেওয়ায় ৫ জুন থেকে আমদানি শুরু হয়। আজো বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আমদানি বাড়ায় রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দরের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে। সেইসঙ্গে বন্দরের শ্রমিকদের আয় বেড়েছে। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কাঁচামাল হওয়ায় দ্রুত খালাসের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি আমরা।’








