টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়ির চাপায় রহিমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহতের ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় আটক গাড়িচালক শহিদুল ইসলামকে (২৮) একমাত্র আসামি করেছেন বাদী। বুধবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিহতের ছেলে বাদল মিয়া বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, সরকারি গাড়ির চাপায় বৃদ্ধা নিহতের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় চালক শহিদুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে চালক শহিদুলসহ গাড়িটি আটক করে থানায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আটক শহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম (৪৫) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার করটিয়া কাজিবাড়ি গ্রামে নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়ির চালক।
জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমড়পুর নামক এলাকার গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে গাড়িচাপায় মারা যান রহিমা বেগম। রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা গাড়িটি তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। রহিমা বেগম ওই এলাকার আবু মন্ডলের স্ত্রী। দরিদ্র এই নারী কোমড়পুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি সরকারি ঘরে বসবাস করতেন।
ঘটনার সময় গাড়িতে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাত হোসাইন, তার স্ত্রী ও এক ছেলে ছিলেন। তবে তাদের কোনও ক্ষতি হয়নি। ঈদ উপলক্ষে রংপুর নিজের বাড়ি থেকে প্রকৌশলী সাজ্জাত হোসাইন গাইবান্ধার পৌর শহরে শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে আসছিলেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারকে মামলা করতে না চাপ দেওয়াসহ ঘটনাটি রফাদফা করতে দফায়-দফায় বৈঠক করে একটি মহল। এ ছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েও ওই মহলটি ঘটনাটি আপসের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।









