গত ৪ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম রতনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহম্মেদ বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় উলিপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল চৌধুরী হককে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিউল ইসলাম, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রুহুল আমিন দুলাল, আনিছুর রহমান খন্দকার চাঁদ ও মোমিনুর রহমান মুমিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম আইয়ুব, সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিটন মিয়া, যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মিলন, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান টিটু, চিনু মিয়াসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ৪ আগস্ট জেলা শহরের ঘোষপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা হামলা করেন। তারা হত্যার উদ্দেশে মারপিট করে সাধারণ ও গুরুতর জখম করেন। এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও প্রাণনাশের হুকুম দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ওসি নাজমুল আলম বলেন, ‘মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ৪ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার জমায়েত চেষ্টাকালে শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। শহরের শাপলা চত্বরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জড়ো হন। শহরের দাদামোড়ে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়। পরে আওয়ামী লীলের নেতাকর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন।








