গাইবান্ধা কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃত্যু, পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৪৯ আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৪৯

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্না (৬৮) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্না ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সহসভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা এবং কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা কারাগারের জেলার মো. আতিকুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। চলতি মাসের ২ তারিখে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। রবিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি প্রেশার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তবে কারাগারে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনও অবহেলা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগলেও তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাগারে নেওয়ার পর তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং সেখানে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

মুন্নার ছেলে সৌমিক বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবু তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, প্রথমে তার বাবাকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন-ভাঙচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর তিনি জামিন পান। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও জেলগেটে আরেকটি মামলায় পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

এদিকে, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
সাবেক এমপির বাসা থেকে গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী কারাগারে
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় আ.লীগ নেতা, বললেন ‘ক্ষমাও চাইতে পারিনি’
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
সর্বশেষ খবর
ওলিসের গোল ও উপমেকানোর লাল কার্ড, ইতালির সঙ্গে ড্র করলো ফ্রান্স
ওলিসের গোল ও উপমেকানোর লাল কার্ড, ইতালির সঙ্গে ড্র করলো ফ্রান্স
অবশেষে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি এলো ঢাকায়
অবশেষে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি এলো ঢাকায়
মার্কিন চাপের মুখে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও তেল ছাড়বে জি-সেভেন
মার্কিন চাপের মুখে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও তেল ছাড়বে জি-সেভেন
বধির স্কুলের জমি আর দখল হতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
বধির স্কুলের জমি আর দখল হতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম
ফের বাড়লো তেলের দাম
ফের বাড়লো তেলের দাম