ঈদযাত্রায় ট্রেনের প্রস্তুতি, চলছে ১০৬ রেল কোচের মেরামত

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
০২ মার্চ ২০২৬, ১০:০১আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:০১

ঈদের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায় ট্রেনের যাত্রী। তাই এই ধাক্কা সামলাতে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাত্রীসেবার জন্য মেরামত করা হচ্ছে ১০৬টি কোচ, যা ঈদের সময় যাত্রীদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এসব কোচ মেরামতের কাজ চলছে। এ কারণে জনবল ও কাঁচামালের সংকট থাকলেও কারখানায় পুরোদমে চলছে কাজ। এসব কোচের বগি মেরামত ও রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। 

কারখানার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কেউ করছেন ঝালাইয়ের কাজ, কেউবা ঘষে তুলছেন পুরোনো রঙ। আবার কেউ করছেন নতুন রঙ। এরপর তৈরি করা বগিগুলো ইঞ্জিনের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গন্তব্যে। এরই মধ্যে ৫০টি ব্রডগেজ ও ১৪টি মিটারগেজ বগি চলে গেছে পাকশী ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগের কাছে। বাকিগুলো ঈদের আগেই মেরামত শেষ হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলোও হস্তান্তর করা হবে।

এসব কোচের বগি মেরামত ও রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ এলে ঘরমুখো মানুষের গন্তব্যে ফিরতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ সময় যাত্রীদের চাপ সামলাতে ১০৬টি কোচ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০টি ব্রডগেজ (বড়) ও ৪৬টি মিটারগেজ (ছোট লাইন) লাইনের কোচ রয়েছে। মাত্র ২৪ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতাসহ নানা সমস্যার মধ্যেও কোচগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এতে করে ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদে বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথে ভোগান্তি কমে যাবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৈয়দপুর কারখানার ২৯টি উপ-কারখানায় এসব কোচ মেরামতে ৩৯ কর্মদিবস হাতে পেয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মেরামত করা কোচগুলো আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শেষ দিন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি সংখ্যক কোচ মেরামত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন। কারণ গত বছর ঈদুল ফিতরে ১৬৭টি কোচ মেরামত করা হয়েছিল। এবার ১৬৭টি না হলেও অন্তত ১০৬ কোচের বেশি মেরামত করা হবে বলে আশা করা যায়।

কেউ করছেন ঝালাইয়ের কাজ, কেউবা ঘষে তুলছেন পুরোনো রঙ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতি বছর দুই ঈদের জন্য অধিকতর যাত্রীসেবার কথা ভেবে কোচ মেরামত করে থাকে। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও এবার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা দিনে-রাতে পরিশ্রম করে ঈদের জন্য ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেন। যা গত বছরের চেয়ে আসন্ন ঈদে ৬১টি কোচ কম মেরামত করা হচ্ছে।

কারখানার ভেতরে এবং বাইরে দুই হাজার ৮৫৯ জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৬০ জন। জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। এর মধ্যেও নানা ধরনের যত্রাংশ তৈরিসহ প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। যদিও কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকট রয়েছে, তবুও কাজে আন্তরিকতার অভাব নেই সংশ্লিষ্টদের। অবশ্য শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইমের ব্যবস্থা আছে। ঈদ ঘিরে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা কাজ চলছে ২৯টি উপ-কারখানায়। শ্রমিকরা রঙ করা, বডি প্রস্তুত, আবার কেউ আসন মেরামত ও বিন্যাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৫০টি ব্রডগেজ ও ১৪টি মিটারগেজ বগি চলে গেছে পাকশী ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগের কাছে।

কোচ মেরামতের প্রধান শপ ক্যারেজ শপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সুবহান মণ্ডল বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অচল কোচগুলোকে সচল করে থাকি আমরা। আমাদের শ্রমের বিনিময়ে যাত্রীরা নিরাপদে ঈদ করতে পারবেন, এটাই আমাদের সফলতা।’

তৈরি করা বগিগুলো ইঞ্জিনের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গন্তব্যে

একই কারখানার পেইন্ট শপের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা দিনে-রাতে কাজ করে যাচ্ছি। রেলওয়ে বিভাগ যেহেতেু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আমরা সেবার জন্য বেশি করে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। যাতে যাত্রীদের কোনও সমস্যা না হয়।’

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদে কারখানায় অতিরিক্ত কোচ মেরামত করা হয়। এবারও কোচ মেরামত শেষে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের জন্য দিনে-রাতে কাজ চলছে। আশা করা যায়, ঈদের আগে মেরামত শেষে সব কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। ঈদের সময় যাত্রীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। এসব কোচ রেলের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চালানো হবে। এ ছাড়া আন্তঃনগর কোচগুলোতেও সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি জনবল সংকট কাটাতে কারখানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই জনবল সংকটের বিষয়টি সমাধান হবে।’

প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আগামী ৩ মার্চ। প্রথম দিন ১৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ—ওই দিন ২৩ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। এবারও সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঈদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য সময়সূচির বিপর্যয় রোধের বিষয়ে গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
ফিরতি যাত্রায় দুর্ভোগ, বাড়তি ভাড়া আদায়
পরিবহনে পাঁচ দিন পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং, অর্ধেক খালি যাচ্ছে লঞ্চপটুয়াখালীতে বাসে সিট সংকট, যাত্রীশূন্য লঞ্চ
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী