আমদানির সময়সীমা শেষের দিকে হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। তবে আমদানি বাড়লেও সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা করে বেড়েছে। ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে দাবি আমদানিকারকদের। তবে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে চিকন শম্পা কাটারি চাল ৬২-৬৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। আমদানি বন্ধের খবরে এখন ৬৫-৬৬ টাকায় উঠে গিয়েছে। আর স্বর্ণা জাতের মোটা চাল ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে বর্তমানে ৭০ থেকে ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছিল।
বন্দরে চাল কিনতে আসা অনুপ বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা হিলি বন্দর থেকে চাল কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করে থাকি। আমদানি অব্যাহত থাকায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ১০ মার্চের পর আর চাল আমদানি হবে না- এই খবরে প্রতি কেজিতে দুই-তিন টাকা করে বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও যে শম্পা কাটারি ৬২ টাকা ছিল, সেটি এখন ৬৫ টাকা। আর স্বর্ণা ৪৪ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা। দাম বাড়ায় আড়তে চাহিদা কমেছে ক্রেতাদের। আগে যেখানে প্রতিদিন তিন-চার ট্রাক চাল বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করতাম, সেখানে গতকাল এক ট্রাক চাল চট্টগ্রাম পাঠিয়েছি। আজকে কোনও অর্ডার নেই। দাম বাড়ার কারণে মোকামে চাহিদা কমে গেছে। এজন্য আমরাও বিপাকে পড়ে গেছি।’
বন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত ১৮ জানুয়ারি চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। ২১ জানুয়ারি থেকে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে সররবাহ বাড়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসছিল। তবে আমদানির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্চ পর্যন্ত। এরপর সময়সীমা আর বাড়বে না ভেবে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। এখন গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ ট্রাক পর্যন্ত আমদানি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়লেও আমদানি বন্ধের খবরে আগের তুলনায় কিছুটা দাম বেড়েছে। ১০ মার্চের পর আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দাম আরেকটু বাড়তে পারে। বর্তমানে শম্পা কাটারি জাতের চাল ৬৫-৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর স্বর্ণা ৪৫ টাকা। আর আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা বেড়ে যাতে পারে। তবে সরকার যদি আমদানির অনুমতি বাড়িয়ে দেয় তাহলে বাজার আর বাড়বে না।’
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, ‘চাল আমদানির সময়সীমা আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি হবে। তবে নতুন করে সময়সীমা বাড়ানো হলে আবারও আমদানি হতে পারে। এখন পর্যন্ত আমদানির সময়সীমা বাড়ানোর কোনও নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকৃত চাল পরীক্ষা করে দ্রুত সনদ প্রদান করা হচ্ছে। যাতে তারা দ্রুত বন্দর থেকে চাল খালাস করে বাজারজাত করতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে আমদানি বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে দাম নিয়ন্ত্রণে ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২ জন আমদানিকারককে ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে আমদানির অনুমতিপত্র আইপি পাওয়ার পর চালের এলসি খোলার পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়।









