টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে একসঙ্গে মা ও ছেলেসহ নিহত পাঁচ জনের নিজ বাড়ি চত্বরে পৃথক জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বাড়ি চত্বরে সুলতান মাহমুদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার চাচাতো বোন রিফা খাতুনের জানাজা নামাজ বাড়ির উঠানে হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ ছাড়া দুপুর দেড়টার দিকে অপর নিহত দোলা বেগমের গ্রামের বাড়ি বোয়ালিদহ গ্রামে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন স্থানে নার্গিস বেগম ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরবের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম। এতে নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নিহতরা হলেন— নিজপাড়া (আমবাগান) গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা খাতুন (২৪), আব্দুর রশিদের মেয়ে; অপররা হলেন নার্গিস আক্তার (৪২), তার শিশু ছেলে নিরব (১২) এবং বোয়ালিদহ গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী দোলা বেগম (৪৫)। নার্গিস আক্তার একই গ্রামের হামিদুজ্জামান (হাম্বু)-এর স্ত্রী। তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। লাশ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ভিড় করেন।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরার পথে তারা এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার শিকার হন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ পাঁচ জনের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জানা গেছে, নিহতরা সবাই দরিদ্র পরিবারের গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে বহনকারী বাসটির তেল শেষ হয়ে গেলে সন্ধ্যার দিকে তারা সড়কের পাশে নেমে পড়েন। পরে অসতর্কভাবে রেললাইনের ওপর বসে কথা বলার সময় হঠাৎ দ্রুতগামী ট্রেন এসে পড়লে সরে যাওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।







