পাম্পের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকরা। কিন্তু পাম্পগুলো থেকে বলা হচ্ছে, তেল নেই। এ নিয়ে একপ্রকার হাহাকার পড়ে গেছে গ্রাহকদের মাঝে। অনেক মোটরসাইকেলের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। এ অবস্থায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় কোনও পাম্প থেকেই দুই-তিন ঘণ্টার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য অপেক্ষা করেও পাচ্ছেন না। আবার ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও ছয়-সাতটা পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ চালকদের।
জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রংপুর জেলায় ডিজেলের মজুত ছিল শূন্য, পেট্রল ছিল ২৬ হাজার ৫০০ লিটার, অকটেন তিন হাজার ৫০০ লিটার এবং কেরোসিন ২৭ হাজার লিটার। বুধবার নগরীর কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল আসবে। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে বিক্রি হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রমিজ আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। আমরা সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছি।’
তবে বুধবার বিকালে নগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর ৫০টি পাম্পের মধ্যে ১৫টিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও কোনোটিতে পেট্রল থাকলেও অকটেন নেই, আবার কোনোটিতে ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই। অর্থাৎ একটি আছে তো অন্যটি নেই।
এর মধ্যে নগরীর সালেক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, তেল নেই সাইনবোর্ড। পাম্পের কর্মচারীরা বলেছেন, মঙ্গলবার বিকালে তিন হাজার লিটার পেট্রল ডিপো থেকে পাওয়া গেলেও রাতেই বিক্রি হয়ে গেছে। ম্যানেজার আশরাফ বলেন, ‘আমাদের স্বাভাবিক চাহিদা ৯ হাজার লিটার। কিন্তু আমাদের দেওয়া হচ্ছে তিন হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা কোনোভাবেই পূরণ করা যাচ্ছে না।’
একই অবস্থা নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের পেট্রল পাম্পের। সেখানে পেট্রল নেই, শুধু অকটেন দেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ২০০ টাকার। আধামাইল দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। পাম্পের কর্মীরা জানান, বিকাল ৩টা পর্যন্ত অকটেন হয়তো দেওয়া যাবে। এরপর আর দেওয়া যাবে না। কারণ মজুত ফুরিয়ে যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর দুটি পাম্পের ম্যানেজার জানালেন, জ্বালানি তেলের সংকট আছে। কিন্তু সরকার ও ডিপোগুলো স্বীকার করতে চায় না। আর যদি সংকট না থেকে তাহলে কেন ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন ভাগের এক ভাগ করে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও পেট্রল দিলে অকটেন দেয় না, আবার অকটেন দিলে পেট্রল দেয় না। ফলে গ্রাহক ও আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
নগরীর শাপলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। চালকরা বলছেন ৮-১০টা পাম্প ঘুরে ২-১টাতে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার ২০০ টাকার। এভাবে আমাদের জিম্মি করা হচ্ছে।
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দান ট্রেডার্স পাম্পে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শরীফ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পেই নিরাপত্তাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিক কোনও ঘটনা ঘটেনি।’








