কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় জ্বালানি তেল ‘বিক্রি বন্ধ’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৪আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৪

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলা মিলে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন থাকলেও ‘তেল সংকট’ ও ‘ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হওয়ার’ কারণ দেখিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক ভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকার জ্বালানি তেল নির্ভর খাতগুলো।

স্থানীয় পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রৌমারীতে তেল বিক্রি হচ্ছে না। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল তারা রৌমারীর ‘ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন’ থেকে তেল নিতে পেরেছিলেন। এরপর আর পাম্পটিতে তেল বিক্রি হচ্ছে না। এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্পে তেল নিতে গেলে তারা এক বাক্যে বলছেন, ‘তেল নাই’ । আবার কখনও বলে ‘ ফুয়েল কার্ড’ দেওয়া শেষ হলে তারপর তেল দেওয়া হবে।

রাজিবপুর উপজেলায় কোনও তেলের পাম্প নেই। গ্রাহকরা রৌমারী থেকে তেল সংগ্রহ করেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় রাজিবপুরের লোকজনও তেল পাচ্ছেন না। ফলে তাদের ভোগান্তিও চরমে।

এদিকে তেল সংকটের কারণে ওই দুই উপজেলার সড়কগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন চালিত মোটরযান বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। রিকশা ও ভ্যানে করে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। তবে বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তেল সংকটে মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারায় বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী রিকশা আর ভ্যানের ওপর নির্ভর করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

রৌমারীর বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা চরম বিপাকে আছি। তেল নাই, বিদ্যুৎও নাই বললে চলে। তেলের অভাবে মানুষ গাড়ি চালাতে পারছে না। এলাকায় গন্তব্যে পৌঁছার দ্রুত ও সহজ মাধ্যম হলো মোটরসাইকেল। এখন তেলের অভাবে রাস্তায় মোটরসাইকেল একেবারে কম। একমাত্র তেলের পাম্প তাও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ। এভাবে কতদিন চলা যায়!’

উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশন ‘ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের’ ম্যানেজার শাহজামাল বলেন, ‘এপ্রিল মাসে একবার তেল নিয়ে এসে বিক্রি করা হয়েছে। পরে আরও সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ না হওয়ায় আমরা তেল আনিনি। ইউএনও স্যার বলছে ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ হলে তারপর তেল আনতে। কার্ডের কাজ শেষের দিকে। আগামী সোমবার তেল এনে মঙ্গলবার বিক্রি করা হবে।’

তেলে বিক্রির বিড়ম্বনার বর্ণনা করে এই পাম্প ম্যানেজার বলেন, ‘মানুষ কিছু মানতে চায় না। অনেকে রাত জেগে লাইনে থাকে। কিন্তু তেল বিক্রির সময় কেউ নেতা, কেউ সাংবাদিক আবার কেউবা পুলিশ পরিচয়ে আগে তেল নিতে হুড়োহুড়ি করে। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়েও মানুষদের আটকানো যায় না। তেল শেষ হলেও বলে- তেল দাও। মেশিন দিয়ে হাওয়া বের না হওয়া পর্যন্ত মানুষ পাম্প ছাড়তে চায় না।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, ‘তেল আসে নাই। তেল আসলে দেওয়া হবে।’

ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল আনতে বারণ করা প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘এটা সঠিক নয়। ফুয়েল কার্ড দেওয়া চলমান প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে তেল বিক্রি না করার সম্পর্ক নেই।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
দরপতন পেরিয়ে আবার বাড়লো তেলের দাম
তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেকপ্লাস
আগস্টেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম
সর্বশেষ খবর
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’-এর পর ‘ফাইসা গেছি’:   সাবিলা নূর
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’-এর পর ‘ফাইসা গেছি’: সাবিলা নূর
বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ 
বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ 
লেবানন ছাড়তে শর্ত দিলো ইসরায়েল
লেবানন ছাড়তে শর্ত দিলো ইসরায়েল
আলোচিত ফাহিমা হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে খালাস
আলোচিত ফাহিমা হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে খালাস
সর্বাধিক পঠিত
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা 
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা