কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তপথে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভারতীয়দের পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে বিএসএফের অবৈধ পুশইন ঠেকাতে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি ও গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (৬ জুন) রাতে বিএসএফ বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবি স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের প্রতিহত করে। বিজিবি ও গ্রামবাসীর শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ পিছু হটে। এরপর বিজিবি পুশইন ঠেকাতে এবং গ্রামবাসীদের সচেতন করতে সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যার পর আবার বিএসএফ ওই দুই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ফলে তাৎক্ষণিক পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে যেকোনো সময় বিএসএফ পুশইন করতে পারে বলে ধারণা করছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। এজন্য পাহারা দিচ্ছেন তারা।
বকবান্দা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) বিএসএফ কয়েকজনকে পুশইন করার জন্য সীমান্তে নিয়ে এসেছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ সতর্ক ছিল, সেজন্য পুশইন করতে পারেনি। আজ আবার তারা চেষ্টা করেছে। আসলে সীমান্তে তারা একটা ঝামেলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।‘
মশিউর রহমান নামে আরেকজন বলেন, ‘২০০১ সালে রৌমারীর বড়াইবাড়ী সীমান্তে বিডিআরের কাছে বিএসএফের শোচনীয় পরাজয়ের পর এই এলাকায় তারা বারবার উত্তেজনা তৈরি করে আসছে। গত বছরও ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিফল হয়েছে। এবার আবার শুরু করেছে। আমরা সীমান্তবাসী জীবন দেবো, তবুও একটা ভারতীয়কে দেশের মাটিতে পুশইন করতে দেব না।‘
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রৌমারী সীমান্তের খেওয়ারচর বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বে থাকা বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের এক দায়িত্বশীল সদস্য বলেন, বিএসএফ গতকাল বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আবার তারা চেষ্টা করছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছে, যাতে কাউকে অনুপ্রবেশ করাতে না পারে।’
‘বিএসএফ পুশইনের জন্য গাড়ি ভর্তি করে লোক জড়ো করেছে। সীমান্তের তিনটি গেটে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। আমাদের সঙ্গে অন্তত পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। আমরা কোনও ছাড় দেবো না।’ যোগ করেন ওই বিজিবি সদস্য।
/এএম/এফআর/









