বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত

নীলফামারী প্রতিনিধি
১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩২আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

এমন বক্তব্যের পর তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জানা গেলো তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

নীলফামারী ৪ আসনের এ সংসদ সদস্য রবিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালে সম্পূরক বাজেটের আলোচনাকালে ‍মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের অবদান ছিল দাবি করে বলেন, তার বাবা একজন যুদ্ধে শহীদ। ৪৫ বছর বয়সি এই সংসদ সদস্যের নিজের বাবাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদ’ দাবি করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরসও ছড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই- চার জন মুক্তিযোদ্ধা; আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে হাস্যরস ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন।

অবশ্য পরে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তার ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, সংসদের রেকর্ড থেকে এই ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এদিকে, সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবাদকর্মীদের সামনে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন।

আব্দুল মুনতাকিম ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তার বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া এ সংসদ সদস্যের বাবা ‘যুদ্ধশহীদ’ হন কীভাবে।

এ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা এখনও আছেন। আমার দাদা যুদ্ধ শহীদ। তিনি আমার বাবার চাচা। আমি বোঝাতে চেয়েছি আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আমি আক্ষরিকভাবে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ তা বোঝাইনি।

/এএম/এফআর/
সম্পর্কিত
গুম-খুনে জড়িত সব পুলিশ সদস্যের বিচার চান বিএনপির এমপি
আমাকে দুটি আসন দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি জেবা আমিন
এমপিদের সক্ষমতা বাড়াতে আইআরআইয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব
সর্বশেষ খবর
চার দিন ধরে পড়ে আছি, বাচ্চাগুলার মুখের দি‌কে তাকায় সরাই নেন
চার দিন ধরে পড়ে আছি, বাচ্চাগুলার মুখের দি‌কে তাকায় সরাই নেন
শেষ মুহূর্তে পানামার হৃদয় ভাঙলো ঘানা
শেষ মুহূর্তে পানামার হৃদয় ভাঙলো ঘানা
ফ্ল্যাট বাসায় দুই সন্তানের মায়ের গলা কাটা লাশ
ফ্ল্যাট বাসায় দুই সন্তানের মায়ের গলা কাটা লাশ
সেই খালেদা রাব্বানীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, কথা শুনে আবেগাপ্লুত
সেই খালেদা রাব্বানীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, কথা শুনে আবেগাপ্লুত
সর্বাধিক পঠিত
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা