গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তিনি জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলার আসামি হিসেবে সিআইডির বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করেছে। এ অভিযানে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ সহযোগিতা করেছে।’
পুলিশ জানায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ধর্মীয় পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে র্যাব-৩ তাকে গ্রেফতার করে। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি-বাণিজ্য, টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হরিদাস বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী বাজার এলাকার শ্রী গোপীনাথের ছেলে। অল্প বয়সে ভারতে গিয়ে সেখানে লেখাপড়া ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বলেও বিভিন্ন তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে পলাশবাড়ীতে প্রায় ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি ও মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল হিসেবে পরিচিত হরিদাস কীভাবে অল্প সময়ে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করলেন—সেই অর্থের উৎস তদন্তের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছে। জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারাও তার সম্পদের উৎসের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সর্বশেষ মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির এই গ্রেফতারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের কর্মকাণ্ড ও তার বিপুল সম্পদের উৎস।









