সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেলের দাম, সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মড়লডোবা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন, জানার চেষ্টা করবেন। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সরকার থেকে আমার এলাকার জন্য যে বরাদ্দ আসবে, তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেবো। কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, তা সবাই জানতে পারবেন। আবার কাজ শেষ হওয়ার পর কী কী কাজ হয়েছে, সেটিও জানিয়ে দেবো। আমি নিজেকে এবং ঠাকুরগাঁওকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।’
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, ‘আজ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, লোডশেডিং হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল এলে মনে হয়, আপনি তিন-চারগুণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিদ্যুতের বিল নিয়ে আমরা কেউ খুশি নই। সরকার অন্য পথে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। এটাকে আমি ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলি।’
কৃষকদের সার সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যিনি এত টাকা দিয়ে ডিলার হবেন, তিনি আগে নিজের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, নাকি কৃষকের সেবা করবেন?’
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে জানতে পেরেছি। নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে অনিয়ম থাকতে পারে।’ তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ বক্তব্যে উল্লেখ করেননি।
বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানির সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যে দল কৃষককে সার দিতে পারে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় সেই দলকে মানুষ কেন ভোট দেবে? জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে। এতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন।’
আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর অন্যায়, জুলুম ও শোষণ করা হয়েছে, তাহলে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা মানুষ জানে। কার কাছে নিরাপদ থাকবেন, তা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান।’