ত্রিভুজ প্রেমের কারণে সিলেটে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বনফুলের দুই কর্মচারী খুন হন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জেদান আল মুসা জানান, হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে দুজন খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস পালের আদালতে আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আসামি শিপন ও দুলালকে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া, তাদের সহযোগী ইমনও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
জবানবন্দিতে আসামি শিপন ও দুলাল জানায়, সুমি নামের এক বনফুল কর্মী শিপনের খালাতো বোন। সুমির সঙ্গে ভিকটিম রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আবার সুমি শিপনের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শিপন তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিসিক শিল্প নগরীতে আসে এবং রাসেলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। রাসেলকে বাঁচাতে বন্ধু রাজু আহমদ ও তাফু মিয়া এগিয়ে আসলে তাদেরকেও কুপিয়ে হত্যা করে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় রাসেল।
এডিসি জেদান আল মুসা জানান, গ্রেফতার আরও দুই আসামি উজ্জল এবং নজরুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাদের আরেক সহযোগী শাকিলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া বিসিক শিল্প নগরীতে ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে বনফুলের দুই কর্মচারী চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ দরদাহের হারুনুর রশীদের ছেলে মো. রাজু (১৯) ও শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা এস এম তাফু মিয়া (৪০) খুন হন। এ ঘটনায় রাসেল আহমদ (২২) নামে বনফুলের আরেক কর্মচারী আহত হন। এ ঘটনায় শাহ পরান থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার শিপন আহমেদ (২০), শহরতলীর গোয়াবাড়ির উজ্জল (২০), হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের কসবা গ্রামের দুলাল মিয়া (২০), নগরীর কাজিরবাজার তোপখানার নজরুল (২০) এবং কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজার গ্রামের ইমন (২০)।
আরও পড়ুন:
জঙ্গি হামলার শিকার হলে যা করণীয়
/বিটি/







