দীর্ঘ ২৭ মাস পর সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল সোমবার (২১ মার্চ)। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতিও। তবে শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রের নির্দেশে রবিবার (২০ মার্চ) দুপুরে স্থগিত করা হয় সম্মেলন। ভোটার তালিকা সময়মতো প্রকাশ না করায় এমনটি করা হয়েছে, বলে দলীয় সূত্র জানায়। তবে আসন্ন রমজানের আগেই যেন সম্মেলন সমাপ্ত করা হয়, সিলেটের নেতারা এ অনুরোধ ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
এদিকে, স্থগিতের পর সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করবে তদন্ত কমিটি।
সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসে স্থগিত করার।’ স্থগিত ও এই নিয়ে কেন তদন্ত কমিটি হয়েছে- এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনকে। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহিদ সোহেল।
জানা গেছে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সোমবার সকালে সম্মেলন ও দুপুর থেকে কাউন্সিলরদের ভোট প্রদানের সময় নির্ধারণ করেছিলেন নেতৃবৃন্দ। সব ঠিকঠাক থাকলে সোমবার কাউন্সিলররা গোপন ভোটের মাধ্যমে জেলা বিএনপির শীর্ষ তিনটি পদে নেতা নির্বাচন করতেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, আরিফুল হক চৌধুরী প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে দলের নেতৃত্বে আসার পক্ষে। যদিও দলের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ একনেতার প্রভাবে অন্য আরেক নেতাকে সামনে আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তবে ভোটার তালিকার কাজ আজই শেষ হওয়ায় রবিবার সম্মেলন করার বিপক্ষে তৎপরতা চালায় একটি পক্ষ।
জানতে চাইলে সম্মেলনের আরেক সভাপতি প্রার্থী আবদুল কাহের শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্মেলন পেছানোর প্রধান ও একমাত্র কারণ, ভোটার তালিকা নির্বাচনি আইন অনুযায়ী প্রকাশের কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করতে পারেনি। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে করার কথা থাকলেও দুদিন আগে করেছে।’
আবদুল কাহের শামীম জানান, তারা দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে রমজানের আগেই সম্মেলন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।








