মন্ত্রিসভায় নেই রেজা কিবরিয়া, হতাশ অনুসারী ও নেতাকর্মীরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪২আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৬

হবিগঞ্জের চারটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও মন্ত্রিসভায় জেলার কোনও এমপি স্থান না পাওয়ায় আলোচনা চলছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটে জয় পাওয়া বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া মন্ত্রী হবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল কমবেশি সবার। তবে গঠিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে।

বিএনপিতে যোগ দিয়েই রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এলাকায় জোরালোভাবে প্রচার হতে থাকে—দল সরকার গঠন করলে রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় ছিল। জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গণমাধ্যমেও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় তার নাম উঠে আসে। এতে নবীগঞ্জ-বাহুবলে এক ধরনের প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়।

মন্ত্রী হওয়ার আলোচনার পেছনে তার পারিবারিক ও পেশাগত পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার বাবা প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়া ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ও কূটনীতিক। সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রেজা কিবরিয়া অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন ধারণা স্থানীয়ভাবে জোরালো হয়।

নির্বাচনি প্রচারণায় রেজা কিবরিয়া, তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। অবহেলিত নবীগঞ্জ-বাহুবলের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের আশ্বাসের পাশাপাশি মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রচারণায় উঠে আসে। স্থানীয় অনেক ভোটারের মতে, সরাসরি মন্ত্রিত্ব পেলে এলাকার উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে—এই বিশ্বাস থেকেই অনেকে তার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলাফলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়। বিপুল ব্যবধানে অর্থাৎ ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এলাকার কয়েকজন ভোটার জানান, মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছের নামও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিল। জেলার চারটি আসনেই বিএনপির জয় হওয়ায় অন্তত একজন মন্ত্রী পাবেন—এমন আশা করেছিলেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তবে চূড়ান্ত ঘোষণায় কেউই স্থান না পাওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় এখন উন্নয়ন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ নেতাকর্মীদের নিয়ে সমালোচনা করছেন।

 

/এএম/এমওএফ/ 
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে