সিলেটে প্রথমবার ‘কৃষক মার্কেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় বসানো হচ্ছে এই মার্কেট। বুধবার (০৮ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ নিয়ে এক প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘এই মার্কেটে কৃষকরা যাতে সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিই মার্কেটের মূল লক্ষ্য। পাইলটভিত্তিক এই প্রকল্প চালু হলে নগরীর টুকেরবাজারসহ অন্যান্য এলাকায় অনুরূপ মার্কেট চালু হবে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে চালু হচ্ছে এই মার্কেট। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কেটের উদ্বোধন করবেন।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে চালু হওয়া কৃষি মার্কেট বিকাল পর্যন্ত চলবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি মার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন। এজন্য তাদের কোনও চার্জ কিংবা টোল দিতে হবে না। সার্বিক নিরাপত্তায় কৃষি বিভাগের একজন অফিসার মার্কেটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ভোক্তারা যাতে মার্কেট থেকে ফ্রেশ কৃষিপণ্য ও ফলমূল কিনতে পারেন, সে প্রচেষ্টা চালাবে জেলা প্রশাসন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে নিয়ে যেতে চাই আমরা। এজন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালরা যাতে ফায়দা নিতে না পারে, এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকবো।’
গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা রইছ উদ্দিন প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এ মার্কেটে নিরাপদ খাদ্য বিক্রির নিশ্চয়তা থাকবে। আনারস ও লেবুসহ চারটি অর্গানিক ফুড উৎপাদন করি আমি। অর্গানিক ফুডের খরচ খুব বেশি। কেউ যদি কম খরচে কেমিক্যালযুক্ত পণ্য বিক্রি করতে চায়, সেটি প্রশাসনকে রোধ করতে হবে। তা না হলে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও কৃষকরা বিপাকে পড়বেন।’
সাত দিনব্যাপী আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা উদ্বোধন ১১ এপ্রিল
এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আগামী ১১ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার মাধ্যমে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, প্রচার এবং বিক্রয় বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত স্টল স্থাপন করা হবে, যেখানে হস্তশিল্প, চামড়াজাত সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। মেলায় আমদানিকৃত কোনও পণ্য প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে না।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই মেলা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করবে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ।








