হবিগঞ্জে ছাত্রদলের হামলার শিকার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে পুলিশের নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সেখান থেকে তারা ঢাকার পথে রওনা হবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে পুলিশের তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হন তারা। পরে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারা। পুলিশ জানায়, রাত ১০টায় পুলিশ প্রটোকলে হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সারজিস আলম।
হামলার পর অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় তাদেরকে মৌলভীবাজার পাঠানো হয়েছে। বুধবার সেখানে তাদের কর্মসূচি রয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার মুখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
হামলার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকাল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি জিপ গাড়িতে চড়ে সমাবেশস্থল থেকে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দেন। তার গাড়িটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে গাড়িটি থামিয়ে নেতাকর্মীদের নামিয়ে মারধর করা হয়। পাশাপাশি গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। এতে নাসীরুদ্দীন ও সারজিসসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।








