জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘ওই গদি আপনার না, এই গদি আমাদের, এই গদি বাংলাদেশের জনগণের।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার শেষ পথসভায় বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রিয় তারেক রহমান, আপনাকে কয়েকটি কথা বলার আছে। আমাদের তিনটা লড়াই ছিল, এক নাম্বার লড়াই ছিল আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম করবো, যেই গণতন্ত্রে কোনও পেশিশক্তির ব্যবহার হবে না, টাকা দিয়ে ভোট কেনা হবে না, কেন্দ্র দখল করা হবে না, প্রশাসনের কোনও লেজুড়বৃত্তি চলবে না। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম কিন্তু যাকে বিশ্বাস করেছিলাম তারা আমাদের জন্য প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা জাতীয় ইলেকশনে অংশগ্রহণ করেছিলাম, যেন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। কিন্তু সেই নির্বাচনে তারেক রহমান নিজের নামের সাথে নতুন করে ইঞ্জিনিয়ার উপাধি গ্রহণ করলেন। আমরা তারপরও ধৈর্য ধারণ করলাম। সংসদ অধিবেশন বসলো, সংসদ অধিবেশনে বসার পরে তারেক রহমান প্রথমে আমাদেরকে চমক দেখালেন, আমাদের ভাইদের খুনি চুপ্পুকে সংসদে উপস্থিত করলেন। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, আরেকটু দেখার জন্য চুপ করে বসেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, যেই ১৪০০ মানুষের জীবনের ওপরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সংসদে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা হয়েছে, সংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশে হিন্দু, মুসলিম, আলেম, নারী, পুলিশ, মিলিটারি সবাই ভালো থাকবে। সবার কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু তারেক রহমান দেশে এসে বললেন, সংস্কারের দরকার নাই। তার বিশিষ্ট উপদেষ্টা সালাউদ্দিন সাহেব সংস্কারের বদলে সংশোধন কমিটি বানালেন। যেদিন পার্লামেন্টে সংশোধন কমিটি হয়েছে, সেদিনই বাংলাদেশে তারেক রহমানের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে।
পাটওয়ারী বলেন, জনগণের আমানতের খেয়ানত হয়েছে, তরুণদের ভাগ্য কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, নারীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আলেমদের সাথে গাদ্দারি করা হয়েছে, আমরা মাঠে নেমে জনগণের কাছে গেলাম। আমরা জনগনের সামনে উপস্থিত হয়েছি, যারা আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে, তাদেরকে উচিত জবাব দেওয়ার জন্য জনতা আবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি, তখন তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিলো। সন্ত্রাসের পথ বেছে নিতে শেখ হাসিনার ১০ বছর সময় লেগেছিল, কিন্তু তারেক রহমানের সময় লাগলো মাত্র ৫ মাস। আমরা বললাম, আমরা দেশে সন্ত্রাস চাই না, আর একটি লাশও চাই না, আর কোনও ভাইয়ের হাত হারাতে চাই না, আর কোনও মায়ের বুক খালি করতে চাই না, কিন্তু গদি টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি মনে করেছেন কাউকে হত্যা করলে, মুখ বন্ধ করলে আপনার গদি শক্ত হয়ে যাবে, ওই গদি আপনার না, এই গদি আমাদের, এই গদি বাংলাদেশের জনগণের। শহীদ জিয়া মারা গেছেন, বেগম খালেদা জিয়া চলে গেছেন, এখনো যদি জিয়া ব্যবসা চালান, জিয়ার ব্যানার দিয়ে দুর্নীতি করেন, জিয়ার ব্যানার দিয়ে টেন্ডারবাজি করেন, খালেদা জিয়ার ব্যানার দিয়ে টেম্পু স্ট্যান্ড দখল করেন, খালেদা জিয়ার ব্যানার দিয়ে বাসস্ট্যান্ড দখল করেন, আমরা বলবো আপনারা জিয়া পরিবারের অসম্মান করছেন। জিয়া পরিবারের নাম দিয়ে বাংলাদেশে আমরা নতুন কোনও ব্যবসা করতে দেবো না।

রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’






