ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ কার্যালয়ের আরও দু’টি গেট ভেঙে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটার পর রাতেই পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে।
পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনকে। তদন্ত কমিটিকে যত দ্রুতসম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চলে আসা বিক্ষোভ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় কিছু সহিংস শিক্ষার্থী ও বহিরাগত যুবক আজ (মঙ্গলবার) আনুমানিক বেলা ১২টায় উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির নামে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও হাতিয়ার, যেমন— হ্যাকস ব্লেড, রড, লোহার পাইপ, ইট, পাথর ইত্যাদি ব্যবহার করে উপাচার্য অফিসের তিনটি গেটের তালা ও শিকল ভেঙে ফেলে। তারা উপাচার্যের অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নেয় এবং দু’টি মাইকে অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করে উপস্থিত শিক্ষক, প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য ও উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে অশালীন বক্তব্য দিতে থাকে। একইসঙ্গে অফিস প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ দেয়াল চিত্র অঙ্কন ও উক্তি লিখতে থাকে। এ অবস্থায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আন্দেলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলকে উপাচার্যের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আহ্বানে আন্দোলনকারীরা সাড়া না দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা দিতে থাকে। উপাচার্য পূর্বনির্ধারিত বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ সভায় অংশ নিতে সিনেট ভবনের দিতে যাওয়ার পথে উদ্ধত, উত্তেজিত ও উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলনকারীরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে উপাচার্যের পথ রোধ করে। এ অবস্থায় উপাচার্য ধৈর্য ধরে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে বলে উল্লেখ করেন। তদন্তসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাখান করে একপর্যায়ে উপাচার্যকে আক্রমণ করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রক্টোলিয়াল বডির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা মানববলয় তৈরি করে উপাচার্যকে কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংস কার্যক্রম পূর্বপরিকল্পিত। আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক ধারাবাহিক কার্যক্রমের আরও একটি বড় ধরনের অপপ্রয়াস। যারা আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে, সম্পদের বিনাশ করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বলতে চায়, যেকোনও নিপীড়নমূলক, সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড যারাই ঘটাক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সাত কলেজের অধিভুক্তির বিরোধিতাকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা গত সপ্তাহে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন। এর প্রতিবাদ জানান ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। মঙ্গলবার তারা ছাত্রী নিপীড়নে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি করতে যান। দাবি আদায়ে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের রড ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রলীগ এই দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি— ছাত্রদল, শিবির ও বাম নেতাকর্মীর হাতে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন তারা।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থী প্রগতিশীল ছাত্রজোট। ঢাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আগামী ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর এই জোট। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের এমসি কলেজে বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘উপাচার্যকে অপমানকারী বাম সন্ত্রাসী’দের বহিষ্কার দাবি করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।
আরও পড়ুন-
ভিসিকে অবরুদ্ধের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত: হাছান মাহমুদ
সচেতন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ঢাবি ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দখলে!
ঢাবিতে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের
উপাচার্যের মদতেই ঢাবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা: রিজভী








