X
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২
১৫ আষাঢ় ১৪২৯

সন্তান সরকারি না বেসরকারিতে, বলতে চান না অনেকেই

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১০:৫৪

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সন্তানদের কোন বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করানো হয় সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ৪৩ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সম্পতি বাংলা ট্রিবিউনের জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

২০২১ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাজধানীর ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৭ জন শিক্ষকের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে বাংলা ট্রিবিউন। যেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

রাজধানীতে কর্মরত কত শতাংশ শিক্ষকের সন্তান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে তা জানতে চাওয়া হয় জরিপে।

জরিপে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে ১৪ শতাংশ শিক্ষকের সন্তান। ৫০ শতাংশ শিক্ষকের সন্তানরা পড়ছে সরকারি বিদ্যালয়ে। এ নিয়ে তথ্য দিতে রাজি হননি ৪৩ শতাংশ শিক্ষক।

জরিপে দেখা গেছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর জন্য এবং বাসা থেকে দূরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক তাদের সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। তবে ১৪ শতাংশের অনেকেই বলেছেন, তাদের বেসরকারি বিদ্যালয়েই আগ্রহ বেশি।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘দেশের কিছু সংখ্যক লোক মনে করেন ইংরেজি না জানলে শিক্ষিত নয়। অনেক শিক্ষক ভালো ইংরেজি জানেন না। যিনি ইংরেজি ভালো জানেন না তিনি বোধহয় ভালো শিক্ষক নন, কথাটি ঠিক নয়।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘রাজধানী ছাড়া সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিকেই পড়ে। রাজধানীর বাইরের শিক্ষার্থীরাই বেশি বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নাম করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। সমস্যা অভিভাকদের মানসিকতায়।’

তিনি বলেন, ‘কিছু লোক তাদের সন্তানদের সবর্জনীন ও বিনামূল্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াতে স্বস্তি বোধ করেন না। তারা মনে করেন— রিকশাচালক, শ্রমিকসহ গরিব লোকদের সন্তানদের সঙ্গে তাদের শিশুদের পড়ালে শিশুরা উন্নত শিক্ষা পাবে না। অনেকে মনে করেন, ভালো ইংরেজি না জানলে শিক্ষিত হওয়া যায় না। প্রাথমিকের সব শিক্ষকরা ভালো ইংরেজি জানেন না। এসব কারণে তারা ইংরেজি মিডিয়ামে ভর্তি করান। এটি মানসিক সমস্যা। এই প্রবণতা রাজধানীর বাইরে নেই।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘কিছু তথ্য অভিভাবকদের জানা দরকার যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন স্বচ্ছতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে আরও ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই যেকোনও পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার উপযুক্ত জায়গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া রাজধানীর সব সরকারি বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে। এ কাজও মানসিকতার পরিবর্তনে কাজে দেবে।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘অনেক শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্কুল দূরে, তাই সন্তানকে বাসার কাছাকাছি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। তবে যাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ রয়েছে অথচ পড়াচ্ছেন না, সেটি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, অজ্ঞতাও। এতে সব ধরনের শিশুর সঙ্গে মেশার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। তাতে নিজেকে যেকোনও পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানো শিখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয় আগের মতো নেই। এখন উন্নত লেখাপড়া হচ্ছে সরকারি প্রাথমিকে। দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করতে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার।’

আরও পড়ুন:

রাজধানীতে উচ্চবিত্তের সন্তানরা কেন সরকারি প্রাথমিকে পড়ছে না

/এসএএস/এসএমএ/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
কুড়িগ্রামে আবারও বন্যার শঙ্কা 
কুড়িগ্রামে আবারও বন্যার শঙ্কা 
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
এ বিভাগের সর্বশেষ
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি-অনার্সে কারিগরি কোর্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি-অনার্সে কারিগরি কোর্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে
প্রাথমিকে অনলাইন বদলি শুরু কাল
প্রাথমিকে অনলাইন বদলি শুরু কাল
বন্যার কবলে স্কুল-কলেজের ৫ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষার্থী
বন্যার কবলে স্কুল-কলেজের ৫ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষার্থী
দুর্নীতির দায়ে প্রাথমিক শিক্ষার ঢাকা বিভাগীয় উপরিচালক বরখাস্ত
দুর্নীতির দায়ে প্রাথমিক শিক্ষার ঢাকা বিভাগীয় উপরিচালক বরখাস্ত