‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শিক্ষার পত্তন’—শিশুদের মাতৃভাষার শিখনের গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বক্তব্যের উপলব্ধি হয়নি দেশ স্বাধীনের ৫৩ বছরেও। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমেই পাঠাভ্যাস কমছে। তার ওপর পাঠ্যবই, শিক্ষক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণেই শিশুদের সঠিক ও শুদ্ধভাবে বাংলা শেখানোতেও পিছিয়ে পড়ছি আমরা। সব মিলিয়ে পড়তে শেখা এবং পড়ে শেখার ক্ষেত্রে পিছিয়েই থাকছে বাংলাদেশ।
সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আয়োজনে ‘রিডিং কনফারেন্স ২০২৫’-এর ‘স্বাধীন পাঠক তৈরি: পঠন দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়নে সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশও উঠে আসে সেমিনারে। পঠন দক্ষতা অর্জনে ও পাঠাভ্যাস তৈরিতে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা উত্তরণের কৌশল নির্ধারণসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই উন্নয়ন, শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন, পঠন দক্ষতাভিত্তিক গবেষণা, পঠনদক্ষতা মূল্যায়ন, বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, বিজ্ঞানসম্মত শিখন, পাঠাভ্যাস তৈরি এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়। ‘রিডিং কনফারেন্স ২০২৫’ বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির একটি প্লাটফর্ম তৈরির পাশাপাশি উদ্ভাবনী কাজের প্রতিফলনের সুযোগ তৈরি করবে বলে সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। তারা জানান, প্রাথমিক স্তরে পঠন দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রমাণভিত্তিক ও টেকসই কৌশল অনুসন্ধান করার প্রয়াস তৈরি করতে পেরেছে।
গত ১৭ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদিনব্যাপী গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রায় সবগুলো প্রবন্ধেই দেখা গেছে, নানা প্রচেষ্টার পরও পিছিয়ে থাকছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় উঠে আসে সেমিনারে। সুপারিশ করা হয় কৌশল নির্ধারণের। পঠন দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বেঞ্চমার্ক বা মানদণ্ড নির্ধারণের সুপারিশ করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনগুলোয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরীফ উল ইসলাম এবং ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’র অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমানের ‘পঠন দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস: দায়বদ্ধতা, অঙ্গীকার, পরিস্থিতি এবং করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধে জানানো হয়, সরকারের উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্বে বাংলাদেশ মৌলিক শিক্ষায়, বিশেষ করে অভিগম্যতা ও সাম্যতার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তবে শিক্ষা-অভিগম্যতা ও সাম্যতার এই সাফল্য সত্ত্বেও ২০১১ সালের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে তৃতীয় শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অর্জনে দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। এই মূল্যায়নে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে, বিশেষ করে পড়ার যোগ্যতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ‘জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ২০১৫’ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ৪১ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৫ শতাংশ শ্রেণি উপযোগী বাংলা পঠন দক্ষতা অর্জন করেছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বৈশ্বিক সূচকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ন্যূনতম বাংলা পঠন দক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশ। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা বিষয়কে প্রধানত ভাষা ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, একই সঙ্গে অন্যান্য বিষয় শিখনের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীর বাংলায় পঠনে কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জিত না হলে শিখন-প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এ উপলব্ধি থেকেই চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) একটি কম্পোনেন্টে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলায় পঠন দক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর ৮৫ শতাংশ বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে নান ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাথমিক স্তরে পঠন দক্ষতায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই গবেষণা প্রবন্ধে ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট তুলে ধরে জানানো হয়, ২০১৫ সালে তৃতীয় শ্রেণির ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি বাংলা অনুচ্ছেদ পড়ে সহজ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।
২০১৮ সালে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ পরিচালিত এবং ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে সম্পাদিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শব্দ পড়তে পারে না এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর ২৭ শতাংশ বুঝতে পারে না তারা কী পড়ছে?
২০১৯ সালের বহুমাত্রিক গুচ্ছ জরিপ বা মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা পঠনের ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করেছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ২০২২ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণি উপযোগী বাংলা পঠন দক্ষতা অর্জন করেছে। ২০২০ সালের বাংলাদেশ শিক্ষা ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির মাত্র ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর এবং তৃতীয় শ্রেণির মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর শ্রেণি উপযোগী পড়ার দক্ষতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রুম টু রিড’-এর শিশু শিক্ষার্থীদের বাংলা পঠন দক্ষতার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে শিক্ষার্থীরা শব্দ বুঝে উচ্চারণ করে মিনিটে ৩৩টি শব্দের বেশি পড়তে পারে না। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার এই ধাপে শব্দ বুঝে মাতৃভাষা উচ্চারণ করে পড়তে পারার হার মিনিটে ৪৫ থেকে ৬০টি শব্দ।
২০২২ সালের একটি গবেষণা তুলে ধরে সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশের শহরের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি সাধারণ পাঠ্যসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে পড়তে সক্ষম, যেখানে গ্রামে এটি মাত্র ৪২ শতাংশ।
২০২৩ সালের বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে জানানো হয়, বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে; যা ২০২৪ সালে ৪০ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদের ‘শিশুর পঠন দক্ষতা মূল্যায়ন ও নিশ্চিত করণে জাতীয় বেঞ্চমার্ক/মানদণ্ড নির্ধারণ: গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা পঠন মানদণ্ড নির্ধারণ করার উল্লেখ করে সুপারিশে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গ্রেডভিত্তিক এবং বয়সভিত্তিক পঠন মানদণ্ড নির্ধারণ করা, যা প্রতিটি শ্রেণির জন্য প্রত্যাশিত পঠন দক্ষতার স্তর নির্ধারণ করবে এবং তারই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষা-কর্মী ও নীতিনির্ধারকদের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন ও অনুসরণ করতে এবং যথাযথ কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।
প্রাথমিকের শিক্ষা অফিসার মো. শরীফ উল ইসলাম তার ‘স্বাধীন পাঠক ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলা পঠন দক্ষতা তৃতীয় শ্রেণিতে ৪১ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ২৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৫১ শতাংশ।
২০২৩ সালের জরিপ তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পঠন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ।
ঢাকা দোহারের ৫ নম্বর চর পরুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া আক্তারের ‘পঠন দক্ষতাভিত্তিক গবেষণা: বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা ও পাঠভ্যাস: সাম্প্রতিক গবেষণা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতার পরিসংখ্যান তিনটি পরিমাপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রথমত, ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতার ভিত্তিতে। ২০২৩ সালে এই বয়সী বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পঠন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, যা ভারত ও শ্রীলংকার বেলায় যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ। আর ফিনল্যান্ডের বেলায় এটি কেবল ৫ শতাংশ। তবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এই ব্যর্থতার হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসার অনুমান করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত এটি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পঠন দক্ষতার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২ সালে এনএসএ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক পঠন দক্ষতা অর্জন করেছে, যা ২০২৫ সালে ৮৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যা আশাব্যঞ্জক। অপরপক্ষে, ভারত, শ্রীলংকা ও ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই পঠন দক্ষতা অর্জনের হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ এবং ৯৮ শতাংশ, যা তাদের দেশের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিচ্ছবিকে তুলনামূলক তুলে ধরেছে।
আর তৃতীয়ত, গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন আছিয়া আক্তার। এই পরিমাপকের ওপর ভিত্তি করে গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পঠন দক্ষতার ব্যবধান ছিল ১৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ১৪ শতাংশ হতে পারে। যেখানে ভারত, শ্রীলংকায় যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ৮ শতাংশ। তবে, তা ফিনল্যান্ডে মাত্র ২ শতাংশ, যা তাদের সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
তবে এসবের বিপরীতে আশার কথাও শুনিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা চিহ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ একটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে পারবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
বেসরকারি সংস্থা ‘রুম টু রিড’ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর আয়োজিত গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত সেমিনারের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘শিশুকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হলে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। শিক্ষার মূলভিত্তি হলো পাঠাভ্যাস, যা শিশুর অ্যাকাডেমিক সাফল্য ও মানসিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পাঠকে আনন্দময় করে তুলতে হবে।’
‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার বলেন, কয়েকটি প্রোগ্রাম মডেল থেকে আমরা ভালো রেজাল্ট পেয়েছি। সেগুলোর ব্যাপ্তি ও পরিসর পরখ করতে সরকার পাইলট করছে। ইতোমধ্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের গুরুত্ব উঠে এসেছে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া নতুন ক্লাস রুটিনে। শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার বাস্তবায়ন নিয়েও সরকার চিন্তা করছে। ‘রুম টু রিড’ কার্যকর পঠন মডেল তৈরিসহ শিক্ষক সহায়িকা উন্নয়ন করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরা প্রায় দুই শত সম্পূরক পঠন সামগ্রীর চর্চাও করিয়েছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সরকারকে কৌশলগত ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা দেওয়ার জন্যও ‘রুম টু রিড’ প্রস্তুত আছে।








