রাজধানী ঢাকার বেসরকারি মিরপুর কলেজে সরকারের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে অধ্যাপক আবুল উবায়েদ মুহাম্মদ বাসেত ঠাকুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় ঢাকার বেসরকারি মিরপুর কলেজে প্রেষণে একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য কলেজের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। সে বিজ্ঞপ্তির পর ১৫ প্রার্থী আবেদনও করেছেন। তাদের প্রত্যেকর কাছ থেকে এক হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল উবায়েদ মুহাম্মদ বাসেত ঠাকুরকে মিরপুর কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, মিরপুর কলেজ গভর্নিং বডি ওই অধ্যক্ষকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, রবিবার (২৪ আগস্ট) প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষ আবুল উবায়েদ মুহাম্মদ বাসেত ঠাকুরকে মিরপুর কলেজে জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক ফুল দিয়ে স্বাগতও জানান। তবে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, নিয়োগটি আইনবহির্ভূত হওয়ায় তাকে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।
প্রেষণে অধ্যক্ষ নিয়োগের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ পদে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া কাউকে মেনে নেওয়া হবে না। নিয়ম মেনে যিনি অধ্যক্ষ হিসেবে আসবেন, তাকেই সবাই স্বাগত জানানো হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদ সাধারণত তিন জনের নাম প্রস্তাব করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত প্রথমজনকে অথবা প্রথম তিন জনের মধ্যে একজনকে নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি বেসরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নজিরবিহীন উল্লেখ করে বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মাজহারুল হান্নান বলেন, ‘যদি কলেজ পরিচালনা পরিষদ না চায়, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনও অধ্যক্ষ প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারে না। নিয়োগদাতা হচ্ছে পরিচালনা পরিষদ এবং এই পরিষদের সভায় প্রস্তাব চূড়ান্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য।’
প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের সময় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরকার থেকে প্রেষণে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে ৬৯ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগসহ নানান অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে বিশৃঙ্খলা চলতে দেখা যায়।







