শারীরিক বা অন্য কোনও সীমাবদ্ধতা শিশুর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, “পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিটি শিশুর মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই হাতহীন মেধাবী তরুণী আয়েশার জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবনে সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং আত্মবিশ্বাস। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে ডাক্তার, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, মহাকাশচারী কিংবা দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি—যা হতে চায়, তা অর্জন করা সম্ভব।”
ববি হাজ্জাজ বলেন, “আয়েশার জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য প্রমাণ করে, দৃঢ় মনোবল থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করা যায়।” তবে আয়েশার সাফল্য যেন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু যেন নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে কোনও শিশু পিছিয়ে থাকবে না এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে।”
ববি হাজ্জাজ জানান, অনুষ্ঠানে এসে তিনি জানতে পেরেছেন, প্রধানমন্ত্রী আয়েশাকে গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আয়েশার নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তেজগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বুটেক্সের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই হাত না থাকলেও অদম্য মনোবল ও প্রচেষ্টায় জীবনের প্রতিকূলতা জয় করা তরুণী আয়েশাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’।

পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবধান কমাতে কাজ করছে ইউজিসি







