কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পিস ক্যাফে ও কমিউনিটি লাইব্রেরি চালু করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (সিপিজে)। একই দিনে ‘রোহিঙ্গা হিস্টোরি অ্যান্ড নলেজ সেন্টার’ (আরএইচকেসি) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্র্যাক আউনিভার্সিটি এ তথ্য জানায়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি)কার্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ইতিহাস, পরিচয় ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, গবেষণা ও কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখবে।
সিপিজের পিস ক্যাফে নারী শিক্ষার্থীদের সিভিক এনগেজমেন্ট ও সামাজিক উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়ার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় ২০১৮ সাল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি পিস ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিপিজের রিফিউজি স্টাডিজ ইউনিট শিক্ষা, গবেষণা, সক্ষমতা উন্নয়ন ও অ্যাডভোকেসি নিয়ে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো স্থানীয় বাস্তবতা আরও ভালোভাবে বোঝা এবং শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এ এই পিস ক্যাফে ও কমিউনিটি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গারা বই পড়ার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে এটি তাদের জন্য মতবিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও শেখার একটি জায়গা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা তরুণরা এখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা ভাগাভাগি করতে পারবে। এটি তাদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা ও সম্ভাবনা তৈরিতেও সহায়তা করবে।
পিস ক্যাফে ও কমিউনিটি লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, সিপিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাদাত এবং অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর মোফাক খারুল ইসলাম তৌফিক।
পরে কক্সবাজারে আরআরআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা হিস্টোরি অ্যান্ড নলেজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ সময় সিপিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাদাত এবং অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর মোফাক খারুল ইসলাম তৌফিক উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা হিস্টোরি অ্যান্ড নলেজ সেন্টার স্থাপনের জন্য আরআরআরসি কার্যালয় ক্যাম্পের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূইয়া, আরআরআরসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আফতাবুজ্জামান আল-ইমরান এবং সিপিজের ইনস্টিটিউশনাল অ্যাডভাইজার মনজুর হাসান, ওবিই।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অবদান রাখছে। বিশেষ করে এসডিজি ১০ (বৈষম্য হ্রাস) এবং এসডিজি ১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) বাস্তবায়নে এ উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









