X
রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

পপসম্রাট আজম খান: চলে যাওয়ার ১০ বছর

সুধাময় সরকার
০৫ জুন ২০২১, ১৩:৩৫আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ১৪:৪৮

বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও আজম খানকে মানুষ মানতো ‘গুরু’ বলে, দাবি করতো ‘পপসম্রাট’ বলে। আজ (৫ জুন) সেই আকাশছুঁই জনপ্রিয়তা পাওয়া মাটির মানুষটি চলে যাওয়ার ১০ বছর।

২০১০ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হন তিনি। ২০১১ সালের ৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননার মাধ্যমে তাকে সমাহিত করা হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

না, এই দিনটিকে স্মরণে রেখে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনও সাংস্কৃতিক/সংগীত সংগঠন বিশেষ কোনও আয়োজন করেনি। কারণ করোনাকাল।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির ১০নং ভবনে জন্ম নেন আজম খান। তার পুরো নাম মাহবুবুল হক খান। বাবা আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও মা জোবেদা খাতুন। তার শৈশবের পাঁচ বছর কাটে আজিমপুর কলোনিতে। তারা ৪ ভাই ও এক বোন ছিলেন। ১৯৫৫ সালে তিনি প্রথমে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তার বাবা কমলাপুরে বাড়ি বানালে সেখানে চলে যান পরিবারসহ।

আজম খান (সবার বামে) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করেন।

১৯৭০ সালে টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন তিনি। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আজম খান। কুমিল্লার সালদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটি সেকশনের ইনচার্জ। তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর তার ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ দেশব্যাপী সংগীত জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৭২ সালে বন্ধু নিলু আর মনসুরকে গিটারে, সাদেককে ড্রামসে আর নিজেকে প্রধান ভোকাল করে অনুষ্ঠান শুরু করেন। ওই বছরই তার ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ আর ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি বিটিভিতে প্রচার হয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিটিভিতে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ গান গেয়ে হইচই ফেলে দেন আজম খান।

তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘আমি যারে চাইরে’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘একসিডেন্ট’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘পাপড়ি’, ‘বাধা দিও না’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’ ইত্যাদি।

১৯৮২ সালে ‌‘এক যুগ’ নামে তার প্রথম ক্যাসেট বের হয়। এরপর তার বেশ কিছু ক্যাসেট ও সিডি বাজারজাত হয়। আজম খানের প্রথম সিডি বের হয় ১৯৯৯ সালের ৩ মে ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের প্রযোজনায়।

গানের বাইরে বেশ কয়েকটি আলোচিত কাজও করেছেন আজম খান। ১৯৮৬ সালে ‘কালা বাউল’ নামে হিরামনের একটি নাটকে এবং ২০০৩ সালে শাহীন-সুমন পরিচালিত ‘গডফাদার’ চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

আজম খান (২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০- ০৫ জুন ২০১১) ২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম মডেল হন। পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ ২০১০ সালে কোবরা ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনেও মডেল হন এই কিংবদন্তি।

১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহেদা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় আজম খানের। সহধর্মিণী মারা যাওয়ার পর থেকে একাকী জীবন কাটান এ কিংবদন্তি। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। বড় মেয়ে ইমা খান, মেজো ছেলে হৃদয় খান ও ছোট মেয়ে অরণী খান।

/এমএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
দুর্গম চরাঞ্চল থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার
দুর্গম চরাঞ্চল থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার
গতকালের বিক্ষোভের বিষয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
গতকালের বিক্ষোভের বিষয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
৯ মাস পর ঢাকায় আসছেন শাকিব খান, ফিরে যাবেন নভেম্বরে!
৯ মাস পর ঢাকায় আসছেন শাকিব খান, ফিরে যাবেন নভেম্বরে!
পাকা চুল তুললে কি আরও বেশি গজায়?
পাকা চুল তুললে কি আরও বেশি গজায়?
এ বিভাগের সর্বশেষ
পপগুরু নেই আজ ১১ বছর
পপগুরু নেই আজ ১১ বছর
শুভ জন্মদিন পপগুরু
শুভ জন্মদিন পপগুরু