X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বড় চাওয়া নেই, শান্তি ও স্থিরতা খোঁজা ছাড়া: টিনা রাসেল

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫১

এই প্রজন্মের কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে আছেন টিনা রাসেল। শিক্ষা, সফলতা ও স্বীকৃতি- তিনটিই যেন সমানতালে সায় দিচ্ছে তাকে। নচিকেতা-বাপ্পা-সাজিদ-টুনাইদের সুরে গান, তাহসান-ইমরানদের সঙ্গে নিয়মিত কণ্ঠ শেয়ার, জুলফিকার রাসেলের গীতিকবিতা এবং সংগীতের ওপর সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মিশেলে টিনা হয়ে উঠছেন এই প্রজন্মের অনবদ্য এক কণ্ঠস্বর। আলাপ হলো তার অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে-

বাংলা ট্রিবিউন: শেষ থেকেই শুরু করা যাক। ভুল না হলে সম্প্রতি কাজ করেছেন বাপ্পা মজুমদারের নতুন প্রজেক্টে।

টিনা রাসেল: ঠিক তাই। এটা বাপ্পাদা’র উদ্যোগে ‘বিউটিফুল ভয়েসেস- সিজন ওয়ান’ প্রজেক্টের গান। এখানে আমরা ৮ জন নারী শিল্পী ৮টি গান করেছি। সবক’টির সুর-সংগীত বাপ্পা দা’র। এগুলো প্রকাশও হচ্ছে দাদার ইউটিউব চ্যানেলে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে এটা আপনার প্রথম কাজ।

টিনা রাসেল: প্রথম মানে অনেক কাঙ্ক্ষিত প্রথম! প্রফেশনালি গাওয়া শুরুর পর থেকে যে দু’একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখেছি, তার মধ্যে দাদা ছিলেন অন্যতম। এই গানটি আমার জন্য আরও দুটি কারণে বিশেষ। গানটি লিখেছেন আমার জীবনসঙ্গী জুলফিকার রাসেল। তার সম্পর্কে তো নতুন করে বলার কিছু নেই। তো বরাবরই আমি ওর লিরিকে গাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এরচেয়ে বড় বিষয়, এই গানটির মাধ্যমে টানা ১১ বছর পর বাপ্পা-জুলফি জুটি আবারও এক হলেন! এবং সেই এক হওয়ার মাঝে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ছিলাম আমি। ভাবুন একবার, আমি কতটা সৌভাগ্যবান।

বাংলা ট্রিবিউন: নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান, আবার যোগ্যতার কারণেও হতে পারে। আর বাপ্পা-জুলফি জুটির এই মেলবন্ধন সংগীতাঙ্গনের জন্য সত্যিই বড় প্রশান্তির বিষয়। বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

টিনা রাসেল: দাদার কণ্ঠ আর কথা শুনলে শান্তি লাগে। উনার সুরের গান উনিই সবচেয়ে ভালো গাইতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস। তাই ভয়ে ছিলাম গাইতে গিয়ে। জানতাম কঠিন হবে। প্র্যাকটিস করেছি। উনি নিজে ভয়েস নিলেন আমার। দ্রুত শেষ করে ফেললাম। আমি ছোট একটা মানুষ। রেকর্ডিংয়ে গিয়ে উনার কথা শুনে কি যে ভালো লাগলো।

বাংলা ট্রিবিউন: গানটির শিরোনাম ও প্রকাশ হচ্ছে কবে নাগাদ?

টিনা রাসেল: নামটা দাদাই ঠিক করেছেন, ‘কিছু নেই যার’। এরমধ্যে দাদা আমার একটা মুখবন্ধ ভিডিও প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। গানটিও প্রকাশ হবে শিগগিরই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার আরও দুটি বড় গান তৈরি আছে বলে জেনেছি। একটি নচিকেতার সুরে, অন্যটি ইমরানের। সেগুলো কবে নাগাদ আসছে।

টিনা রাসেল: নচিকেতার সুরের গানটি কম্পোজ করেছে ইমরান মাহমুদুল। আরেকটা হলো ইমরানের সঙ্গে ডুয়েট। দুটো গানই লিখেছেন জুলফিকার রাসেল। দুটোর ভিডিও তৈরি করছেন চন্দন রায় চৌধুরী। দ্রুতই কাজ দুটি শেষ হবে। এরপর রিলিজ হওয়ার কথা। এই দুটো গানও দারুণ হয়েছে। মহামারি না হলে আরও আগেই প্রকাশ করা যেতো।  

বাংলা ট্রিবিউন: সামনে আর কী করছেন?

টিনা রাসেল: সুজন আরিফের সুরে একটা গান রেকর্ড বাকি। সেটা রিসেন্টলি করার কথা। এর বাইরে আমি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য পছন্দের কিছু গান কাভার করবো। মাঝে লম্বা সময় কাভার গান করা হয়নি। এই কাজগুলো আসলে নিজের প্রশান্তির জন্য করি আমি।

বাংলা ট্রিবিউন: মাস ছয়েক আগে প্রকাশ হয় আপনার শেষ গানচিত্র ‘পারবো না’। মুম্বাইয়ে চিত্রায়িত গানটি থেকে ভালোই সাড়া পেলেন। প্রশ্ন হলো, আপনার শুরুটা কিন্তু প্লেব্যাক দিয়ে। সিনেমায় গেয়েছেন কিংবদন্তি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরেও। কিন্তু দীর্ঘ সময় আপনাকে প্লেব্যাকে পাওয়া যাচ্ছে না!

টিনা রাসেল: প্রথমত, কোন শিল্পীর স্বপ্ন না থাকে প্লেব্যাক করার? কারণ, গানের জন্য এরচেয়ে বড় ও ভালো মাধ্যম তো নেই। সমস্যা হচ্ছে সিনেমার আগের জৌলুসটা এখন নেই। সিনেমা হয় কম, গানও তেমন। তবে যে গানগুলো হয়, সেখানেও আমি নেই। এটা সত্যি কথা। তারচেয়ে বড় সত্যি, সিনেমায় গান করার জন্য যে যোগাযোগটা রাখা দরকার, সেটা আমি রাখতে পারিনি। ফলে এখন সিনেমায় কীভাবে কাজ হয়, জানি না। এটাও হতে পারে, আমার যোগ্যতাও সেভাবে নেই!

টিনা রাসেল বাংলা ট্রিবিউন: প্রফেশনালি গাওয়া শুরু কি প্লেব্যাকেই? শুরুর দিককার গল্পটা শুনতে চাই।

টিনা রাসেল: আনুষ্ঠানিকভাবে আমার প্রথম প্লেব্যাক ২০১৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল কাকুর সুরে। ছবির নাম ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’। গানটির শিরোনাম এমন, ‘কী করে মানুষ বাঁচে জানি না’। সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছি মনির খানকে। তবে এই গানটি গাওয়ার আগে ওই সময় আড়াই তিন হাজার গানের একটা প্রজেক্ট করছিলেন বুলবুল কাকু। আমি মূলত সেই প্রজেক্টের জন্য কাকুর কাছে যাই। সেখানে ১৫টা গান করেছি কাকুর সুরে। রোজার গান, ঈদ নিয়ে গান- এমন অনেক বিষয়ের ওপর ছিল। যেগুলো খালিদ সং নামের ইউটিউব চ্যানেলে এখনও শোনা যায়। এরপর কাজী হায়াতের ‘সর্বনাশা ইয়াবা’তে গাইলাম রুপম ভাইয়ার সঙ্গে। ‘জিরো থেকে হিরো’, ‘একটু চাওয়া’-সহ তখন টানা প্রায় ১৫/২০টা সিনেমায় গান করি। যদিও আমার অনানুষ্ঠানিক প্রথম প্লেব্যাকের গল্পটা ভিন্ন এবং বেশ মজার!

বাংলা ট্রিবিউন: আনুষ্ঠানিক আর অনানুষ্ঠানিক প্লেব্যাক আবার কেমন!

টিনা রাসেল: বলছি। ২০১৩ সালের ঘটনা। তখন আমি মিউজিকের ওপর মাস্টার্স করছি শান্তমারিয়মে। হঠাৎ একটি মিশ্র অ্যালবামের একটি গান গাওয়ার বিষয়ে বিখ্যাত শ্রুতি স্টুডিওতে যাই। ঢুকেই দেখলাম শ্রুতিতে একজন শিল্পী গানের ভয়েজ দিচ্ছেন। কিন্তু মিউজিক ডিরেক্টরের মনঃপূত হচ্ছে না। বারবার ভয়েস টেক নিচ্ছিলেন। আমি চুপচাপ এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ ওরা বললো, ‘আপনি একটা ডেমো দেন দেখি!’ আমিও সাত-পাঁচ না ভেবে দিলাম। কিছু দিন পরে দেখলাম, ডেমো গানটাই সিনেমায় রয়ে গেলো!

বাংলা ট্রিবিউন: বেশ সারপ্রাইজিং! ওই শিল্পী বা সংগীত পরিচালকের নাম?

টিনা রাসেল: না। ওসব এখন আর বলতে চাই না। এমনটা হতেই পারে। সবাই তো সব সময় সব রকমের গান ভালো গাইতে পারবেন না। সে জন্য আমি সিনেমাটির নামও বলতে চাই না।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি মিউজিকের ওপর একেবারে খাতা-কলমে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেওয়া শিল্পী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লাসিক্যালে অনার্স। শান্তমারিয়ম থেকে নজরুলসংগীতে মাস্টার্স। আবার সংগীতের ওপর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে, যেমনটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সচরাচর মেলে না। এই জার্নিটার কথা জানতে চাই।

টিনা রাসেল: আফসোস একটাই, নানা কারণে পিএইচডিটা করতে পারিনি। তবে এখনও হাল ছাড়িনি। সেটাও করার ইচ্ছা আছে। মায়ের ইচ্ছা, তার মেয়ে নজরুলের ওপর পিএইচডি করবে। আর শিক্ষা জীবনের কথা বললে সেটা বিরাট গল্প। অনেক স্ট্রাগল আছে এই পথটাতে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষে করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একক সিদ্ধান্তে চলে আসা। টিউশনি করে, ছোট ছোট চাকরি করে, বাসে ঝুলে, পায়ে হেঁটে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা। অনেক লম্বা গল্প সেটি। বাট এসব নিয়ে আমার মধ্যে আফসোস নেই, হীনম্মন্যতাও নেই। আমি মনে করি, এই স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেছি।

টিনা রাসেল বাংলা ট্রিবিউন: আপনার পড়াশোনা ক্লাসিক্যাল ও নজরুলের ওপর। কিন্তু প্রফেশনাল জীবনে গাইছেন পিওর আধুনিক গান।

টিনা রাসেল: ছোটবেলায় নজরুল বেশি গাইতাম। বড় হয়ে ভালো লাগা তৈরি হলো আধুনিক গানে। অপ্রচলিত নজরুলের গান ছিল আমার মাস্টার্সের সাবজেক্ট। ফলে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। থিসিস করেছি নজরুলের ইসলামি গান ও ভক্তিগীতি নিয়ে। সেটি নিয়ে একটি বইও প্রকাশ হয়। তরুণ নজরুল গবেষক হিসেবে সেই বইয়ের জন্য পুরস্কারও পাই। এরপর টিভিতে নজরুল গেয়েছি। বাট নজরুলসংগীত শিল্পী হওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার তখনও ছিল না। আমি চেয়েছি নিজের গলাটাকে তৈরি করতে। যেটির জন্য নজরুলের বিকল্প আসলে নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: যতদূর জেনেছি, সংগীত শিক্ষক হিসেবেও আপনার ক্যারিয়ার বেশ লম্বা ও বৈচিত্র্যময়!

টিনা রাসেল: বৈচিত্র্যময় কিনা জানি না। তবে দিনগুলো ছিল এই শহরে নিজেকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধের মতো। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করে প্রাইভেটে এলাম মাস্টার্স করতে, পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে। ফলে নিজের জীবনভার নিজেকেই বহন করতে হচ্ছিল।

পড়াশোনার জন্য জব খুঁজছিলাম। একটা গানের স্কুলে জয়েন করলাম, বেতন দিতো না। সেটি ছেড়ে একটি এনজিওতে জয়েন করেছি। ওরাও ঠিকমতো বেতন দিতো না। এরপর প্ল্যান বাংলাদেশে অ্যাপ্লাই করে ৩ বছরের জন্য একটা জব পাই। পথশিশুদের মিউজিক ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করি। এরপর অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে জয়েন করি মিউজিক টিচার হিসেবে। এরপর বুলবুল ললিতকলায় জয়েন করি। এর ফাঁকে ২০১২ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত আমি টিউশনি করতাম। সবশেষে ২০১৫ সালেই স্কলাস্টিকা থেকে চাকরির অফার পেলাম। ৬ মাস করে সেটিও ছেড়ে দিলাম। তবে এবার আর বেতন সমস্যা নয়, আমি তখন মূল ধারার গানে, শোতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম।

বাংলা ট্রিবিউন: শিক্ষক হিসেবে সত্যিই আপনার জার্নিটা বৈচিত্র্যময়। আপনার প্রথম অ্যালবাম সম্ভবত ২০১৪ সালে প্রকাশ হয়। ‘আজ কি বৃষ্টি হবে’  শিরোনামের অ্যালবামটি কিন্তু দারুণ প্রশংসা কুড়ায়।

টিনা রাসেল: বলতে পারেন এই অ্যালবামটি আমাকে আমার আমি হয়ে উঠতে সর্বোচ্চ সাহায্য করে। এর আগ পর্যন্ত আমি আসলে ভাসছিলাম। এর আগে ১৫টি সিনেমা আর ১৩টি মিশ্র অ্যালবামে গান করে ফেলেছি। কিন্তু ঠিক নিজেকে প্রমাণ করতে পারছিলাম না। লেজার ভিশন থেকে একক অ্যালবামটি প্রকাশের পর আমি আমার আসল ঠিকানা খুঁজে পাই। এরপর ডুয়েট অ্যালবাম ‘আদর আদর ভালোবাসা’ প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে সাউন্ডটেক থেকে। মূলত এরপর থেকেই আমি নতুনভাবে শুরু করি। তবে সেটিও খুব স্লো অ্যান্ড স্টেডি ওয়েতে।

বাংলা ট্রিবিউন: নিজের গাওয়া পছন্দের তালিকাটি কেমন।

টিনা রাসেল: সবই পছন্দের। পছন্দ না হলে তো গাইতামই না। তবে আমার কাছে এ পর্যন্ত বেস্ট গান হচ্ছে ‘চোখের ভেতর’। জুলফির লেখা ও পঞ্চমদার সুর করা। এছাড়া প্রথম অ্যালবামের সবক’টি গান আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি। এই গানগুলো আবার নতুন করে গাইবার ইচ্ছা আছে আমার। এরপর তাহসান ভাইয়ার সঙ্গে ‘শেষ দিন’ও ভীষণ পছন্দের। ধ্রুব মিউজিক থেকে প্রকাশ হওয়া জিসান খান শুভর কথা-সুরে ‘পাগলেরই বেশ’ গানটিও পছন্দের। আনরিলিজড গানের মধ্যে নচিকেতার সুরে গানটাও অসম্ভব প্রিয়।

বাংলা ট্রিবিউন: সর্বশেষ ২০২০ সালে সংগীতের অন্যতম স্বীকৃতি পেলেন চ্যানেল আই থেকে। এর আগে আরও পেয়েছেন নিশ্চয়ই?

টিনা রাসেল: খুব বেশি পাইনি। পেলেও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেলাম চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস থেকে। ‘শেষ দিন’ গানটির জন্য। এরজন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাতেই চাই গীতিকবি জুলফিকার রাসেল, সুরকার সাজিদ সরকার, সহশিল্পী তাহসান, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। এর বাইরে আমি গানের জন্য ছোটবেলায় অনেক স্বীকৃতি পেয়েছি। কারণ, শেখার চেয়ে গেয়েছি বেশি! তবে বড়বেলায় ২০১৫ সালে পেয়েছি সাঁকো টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। ‘আজ কি বৃষ্টি হবে’ অ্যালবামের জন্য। একই কাজের জন্য একই বছর ডিসিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। ২০২০ সালে ‘শেষ দিন’ গানটির জন্য আরেকটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি সিজেএফবি থেকে।  
 
এ আর রাহমানের সেলফিতে জুলফিকার রাসেল-টিনা রাসেল দম্পতি

বাংলা ট্রিবিউন: এ আর রাহমান। বিশ্ব সংগীতের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি। সেই মানুষটার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা হয়েছে আপনার...।

টিনা রাসেল: এই আকাশ ছোঁয়ার সুযোগ হয়েছে আমার জামাইয়ের (গীতিকবি জুলফিকার রাসেল) জন্য! এবং আমি গর্ব করি আমার জামাইকে নিয়ে, যে কিনা এ আর রাহমানের জন্য গান লিখেছে। সেই গান আবার জাতির পিতাকে স্মরণ করে। আর আমার প্রাপ্তিটা জামাইয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে। আমি এখনও ভেবে ভেবে অবাক হই, এই মানুষটা (এ আর রাহমান) নিজ হাতে আমাকে গিফট দিয়েছেন। বাসায় ডেকে সেলফি তুলেছেন। কোরাস পার্টে ভয়েস দেওয়ার জন্য বলেছেন। তখন ওনার বাসায়-স্টুডিওতে দিনরাত পড়ে ছিলাম আমরা। এটা স্বপ্নের মতো। এ ঘটনা আমার সংগীত জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির মতো।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার প্রসঙ্গের বাইরে যাওয়া যাক। গানের পাশাপাশি আপনি ‘টিনা’ নামের ফ্যাশন ব্র্যান্ডও গড়ে তুলেছেন। নিয়মিত টিভিতে উপস্থাপনাও করছেন। আবার পত্রিকা খুললে লাইফস্টাইল পাতায় স্টিল ফটোগ্রাফিতেও আপনাকে দেখা যায়। তাহলে লক্ষ্যটা স্থির হলো কোনদিকে?

টিনা রাসেল: দেখুন, লক্ষ্য একটাই- গানটার সঙ্গে থাকা। আজীবন ভালো গান গাইতে চাই। তারপর হিসাব করবো না, কী পেলাম, না পেলাম। আমার মতো করে ভালো থাকতে চাই। আর ফ্যাশন হাউজটা করেছি মূলত নিজের ফ্যাশন সচেতনতা থেকে। আমি পরিপাটি থাকতে পছন্দ করি সব সময়। সেই পছন্দটা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার লক্ষ্যেই কিন্তু এই অনলাইন শপটি ক্রিয়েট করি। উপস্থাপনাটাও তাই। নিজেকে মাঝে মাঝে পর্দায় দেখতে ইচ্ছে করে, তাই করছি। বাট আমার মূল লক্ষ্য ভালো গান আর মানসিক প্রশান্তি। বড় কোনও চাওয়া বা চাপ আমার ছিল না কখনও, শান্তি ও স্থিরতা খোঁজা ছাড়া।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার শুরু থেকে এই আলাপ শেষ করা যাক। শৈশবে গান শেখার গল্পটা শুনতে চাই। সত্যি বলতে শুরুটা তো শৈশব থেকেই হয় সাধারণত।

টিনা রাসেল: সত্যিকারের শেখাটা আসলে ছোটবেলায় হয়নি আমার। থাকে না, গানের স্কুলে নিয়মিত যাওয়া, গানের শিক্ষক রোজ বাসায় এসে গান তুলে দেওয়া- এসব কিন্তু হয়নি আমার। আমি গান শিখেছি মায়ের গাওয়া দেখে দেখে। আম্মা খালি গলায় দারুণ গাইতেন। দাদুবাড়ি নানুবাড়ির বেশিরভাগ মানুষেরই গলায় সুরটা ছিল। কনজারভেটিভ ছিল না তারা। আবার হারমোনিয়াম-তবলা নিয়ে নিয়মিত প্র্যাকটিসের বালাইও ছিল না। আমাদের গ্রাম থেকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে নাগেশ্বরী শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হই। সেটাও ১২/১৩ বছর বয়সে। বাড়িও ছিল খুব গ্রামে। যতদূর মনে পড়ে, শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি মানিক ভাই, শাহজাহান আলী মিন্টু স্যার, শুভ্রত কুমার বড়ুয়া স্যার ও হাবিবুল মৃধা স্যারকে। এনারাই টুকটাক শিখিয়েছেন।

শৈশবে আমি আসলে সে অর্থে গানের তালিম পাইনি। এক দুই বছর অনিয়মিত শেখার চেষ্টা করেছি। পরে যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ এলো, ভাবলাম মিউজিক নিয়েই পড়ি। মাত্র ১০টা সিট ছিল। তখন ক্লাসিক্যাল শব্দটাই জানি, আর কিছু না। মনে পড়ে, ভর্তি ভাইবাতে খালি গলায় গেয়ে শোনাই- ‘মালার ডোরে বেঁধো না গো বাহুডোরে বাঁধো’ গানটি। চান্স পাই, ভর্তি হয়ে গেলাম। আমার ক্লাসের ৯ জনই ক্লাসিক্যাল সম্পর্কে জানতো। আমি শুধু হা... করে থাকতাম। চূড়ান্ত ফলাফলে সেই আমি মাত্র ১০ নম্বরের জন্য ফার্স্টক্লাস পাইনি! এমন ঘটনা কোনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ঘটেছে কিনা, জানা নেই।

মূলত সেই অভিমান বুকে চেপে রাজশাহী ছেড়ে ঢাকার শান্তমারিয়মে চলে আসি। এখানে এসে একাই শুরু করি জীবনযুদ্ধ। এবং নিজেকে প্রমাণ করি- ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়ে! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি এটা আমার নীরব জবাব। টিনা রাসেল

/এমএম/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত