বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর সদ্য সাধারণ সম্পাদক পদ খোয়ানো চিত্রনায়ক জায়েদ খান দাবি করেছেন, তাকে ঘিরে রাজধানীর বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী গতকাল (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আপিল বোর্ড তার প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী করেছে।
আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) নতুন কমিটির শপথ গ্রহণটাও পেশিশক্তির প্রদর্শনে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় কথাগুলো বলেন এই শিল্পী নেতা।
তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে যেন শপথ না করানো হয় এ জন্য আমি সোহানুর রহমান সোহান ও মোহাম্মদ হোসেনকে আজকেও আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। তারা কেউ-ই আইন মানছেন না। সোহানুর রহমান সোহান ও মোহাম্মদ হোসেনকে নিয়ে নিপুণ শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় এই নীলনকশা তৈরি করেন। ওদের গোপন সেই তথ্য আমার কাছে আছে। আইনের কাছে এই নীলনকশা টিকতে পারবে না। এখন আমার একটাই পথ, আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’
প্রসঙ্গত, আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) খোলা প্রাঙ্গণে হয় সমিতির নবনির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান। এটাকে বয়কট করে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেলের বিজয়ীরা।
আসেননি ডিপজল, রুবেল, মৌসুমীসহ অন্যরা। তবে এতে চমক সৃষ্টি করে হাজির হয়েছিলেন সেই প্যানেলের প্রধান মিশা। সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনিই নতুন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথবাক্য পড়ান। পরে ইলিয়াস কাঞ্চন সাধারণ সম্পাদক নিপুণসহ নতুন কমিটির ২০ জনকে শপথ করান।
জায়েদ নিজেকে এখনও সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বলেন, ‘আমি এখনও সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। গায়ের জোরে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন নিপুণ। ১৭৬ জন ভোটার আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এর সম্মান আমাকে রাখতেই হবে।’
অন্যদিকে, শপথ শেষে শিল্পী সমিতিতে গিয়ে নিজেদের আসনে বসেন এবং দায়িত্ব বুঝে নেন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ। সেটাকেও পেশিশক্তি হিসেবে দেখছেন জায়েদ। তার ভাষ্য, ‘গত দুদিন এফডিসিতে শত শত বাইরের মানুষ আনা হয়েছে। পেশিশক্তি দেখিয়ে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলেই কি সেটাই কার্যকর হয়ে যাবে? এফডিসিতে সৃজনশীল, সিনেমা ও শিল্পের কাজ হয়। এখানে এত বহিরাগত ছেলেরা কারা?’
অন্যদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগর কার্যত নিপুণকে সমর্থন দিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ থেকেই সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বরাবরই বলি, এটা মালাবদলের পালা। তাই পেছনের দিকে আমরা না তাকাই। আশা করি, আগামীতে সুন্দর শিল্পী সমিতি গড়ে উঠবে। আমাদের প্রাণপ্রিয় বড় ভাই ইলিয়াস কাঞ্চন দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি তাকে অনুরোধ করবো সবাইকে নিয়ে এমন কাজ করবেন, যেন কোনও ব্যারিয়ার না থাকে। তিনি আলোকিত মানুষ, তার আলোয় উদ্ভাসিত হোক সবকিছু।’








