X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
একান্ত আলাপে ফেলুদা

‘আমার মনে হয় কিছু লোক যৌথ প্রযোজনার দুর্ব্যবহার করেছে’

মাহমুদ মানজুর
মাহমুদ মানজুর
১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০৭আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯:০৬

দুই বাংলার দর্শকদের মানসপটে ফেলুদা হিসেবেই বিরাজমান সব্যসাচী চক্রবর্তী! ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় এই অভিনেতা। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে তাঁর অভিনীত ‘জেকে ১৯৭১’-এর প্রিমিয়ারও হয়েছে এই উৎসবে। উৎসবে এসে অভিনয় থেকে ছুটি নেওয়ার কথাও জানান তিনি। নতুন ছবি, ক্যারিয়ার ভাবনা ও জীবনের দর্শন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি-

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী ছবিটাও আপনারই। উৎসবটা কেমন দেখলেন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: উৎসবের প্রথম দিনই দেখলাম। ওপেনিং ফিল্মটা ফাখরুল আরেফিন খানের নির্মাণে ‘জেকে ১৯৭১’। যেখানে একটা চরিত্রে কাজ করেছি। দর্শকদের সঙ্গে বসে দেখলাম। সবার ভালোই লেগেছে ছবিটা। উৎসব ওপেনিংয়ে মঞ্চে ছিলাম। ওপেনিং ফিল্মে ছিলাম। এটাই বড় বিষয়।

বাংলা ট্রিবিউন: একটু তুলনা করি। কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল হয়। ক’দিন আগেই হলো। বেশ জাঁকালো আয়োজনে। ঢাকার আয়োজন কিন্তু ততটা জাঁকালো হয় না। অথচ ঢাকার উৎসবটি কলকাতার চেয়েও পুরোনো। এ বিষয়টি কীভাবে দেখেন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: দেখুন যারা এটা করছে তারা অনেক দিন ধরেই করছেন। এখানে নির্মিত কোনও ছবি দেশ-বিদেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে তেমন তো হয়নি। দু’-একটি ছাড়া। সেটা সামনে হবে হয়তো। তখন উৎসবের পরিবেশটাও উন্নত হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে শুধু উৎসব আয়োজন করলেই হবে না। এর সঙ্গে দেশের সিনেমাটা কতটা বৈশ্বিক হলো, সেটাও একটা বিষয়।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: হুম। সেটাই বলছি। তবে এখন বাংলাদেশে যে ধরনের ছবি হচ্ছে, সেটাতে আমি মনে করি ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার ‘জেকে ৭১’-এ আসি। আমরা বলে থাকি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি এটি। এজ এন অ্যাক্টর আপনি কী মনে করেন- ছবিটা কতটা আন্তর্জাতিক হয়ে উঠলো। গল্পে, নির্মাণে, পরিবেশনায়।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: যথেষ্ট আন্তর্জাতিক। এটা অ্যাকচুয়ালি মুক্তিযুদ্ধের নয়, মানবিকতার ছবি। যেখানে দেখা যাবে, একজন ফরাসি লোক টেনশনে পড়ে গেছেন কলকাতার শরণার্থী শিবিরে থাকা বাংলাদেশের শিশুদের নিয়ে। যারা চিকিৎসা আর ওষুধের অভাবে মরছে। সেই দুশ্চিন্তা থেকে আবেগপ্রবণ হয়ে সেই ফরাসি যুবক একটা কাজ করেছে- সেটা বলা যেতে পারে অন্যায়। কারণ, এতে বিমানে থাকা নিরপরাধ অনেক মানুষকে তিনি বিপদে ফেলে দিলেন। কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশি শিশুদের বাঁচানো।

এই ছবিটির মূল বার্তা কিন্তু বর্তমান ও বৈশ্বিক। কারণ, এখনও বিশ্বের বহু শিশু এমন অসহায় অসুস্থ জীবন কাটাচ্ছে। ছবিটির মাধ্যমে সেটাই মূল বার্তা, যেন আমরা তাদের জন্যেও মানবিক থাকি। সচেতন হই। সারা পৃথিবীর বাচ্চাদের প্রতি আমাদের সচেতন হতে হবে। তবেই আগামীর পৃথিবী সুন্দর হবে। এভাবেই তো একটি ছবি আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠে।

বাংলা ট্রিবিউন: এখানে আপনি পাকিস্তানি পাইলটের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সেটি হতে গিয়ে খুব বেশি কি প্রস্তুতির দরকার ছিল?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: ছোটবেলায় আমি বড় হয়েছি দিল্লিতে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান- এসব অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি। তাদের মধ্যে পাকিস্তানিদের খুব একটা তফাৎ নেই। আমার অনেক বন্ধুও আছে পাকিস্তানে সংযুক্ত। আর আমার চেহারাটাও এমন যে সহজেই আমাকে পাকিস্তানি বলে চালিয়ে দেওয়া যায়!

সব্যসাচী চক্রবর্তী/ ছবি: বাংলা ট্রিবিউন বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনার চেহারায় তো গোয়েন্দার ছাপ!

সব্যসাচী চক্রবর্তী: হুম, আমার চেহারা এখন ফেলুদা স্ট্যাম্প হয়ে আছে। এটাও সত্যি কথা।

বাংলা ট্রিবিউন: এ প্রসঙ্গেই আসতে চাইছিলাম। এই যে বেনু দা (ডাক নাম), সব্যসাচী চক্রবর্তী (দাফতরিক নাম) এবং এক জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অথচ পরিচিতিটা দাঁড়িয়ে আছে এক ফেলুদার ওপরেই। এই যে আপনার মূল নাম বা পরিচিতি ছাপিয়ে একটি চরিত্র হয়ে ওঠা, এটা একজন শিল্পীর জন্য কতটা পজিটিভ বা নেগেটিভ। কীভাবে দেখেন আপনি?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: এটাকে আমি ভালোভাবে দেখি। আমাকে আমার নামে লোকে যতখানি চেনে তারচেয়ে বেশি চেনে আমার চরিত্রের নামে। এটা তো আমারই সাফল্য।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এক জীবনে এত এত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেগুলোর জন্য আক্ষেপ হয় না? কারণ, সব ক্রেডিট তো ফেলুদার কবলে!

সব্যসাচী চক্রবর্তী: না না। আক্ষেপ হয় না। আমি অনেক চরিত্র করেছি। কিন্তু ফেলুদা আমার একেবারেই মনের চরিত্র।

বাংলা ট্রিবিউন: টলিউড ও ঢালিউড। দুই বাংলায় দুটো ইন্ডাস্ট্রি। যৌথ প্রযোজনায় অনেক দারুণ দারুণ ছবি হয়েছে। ব্যবসা সফল ছবি। কিন্তু সেটি ক্রমশ কঠিন হয়ে গেলো নানা আইন-কানুন জটিলতায়। প্রথম জিজ্ঞাসা, এই যে কমে গেলো যৌথ উদ্যোগটা- এটাকে কীভাবে দেখছেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: আমার মনে হয় কিছু লোক যৌথ প্রযোজনার দুর্ব্যবহার করেছে। এজন্যই বন্ধ হলো। এটা পুরোটাই তো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওপর নির্ভর করে না। এটা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করে। কাজেই কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে চাইবে তার একটু বাইরে গেলেই সেটা বন্ধ হবে। এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এটা চালু থাকলে ভালো হতো। আমি নিজেও যৌথ প্রযোজনার অনেক ছবি করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: একটা পক্ষ বলছে বাংলাদেশে সিনেমার বাজার ওপেন করে দিলে হল মালিক বাঁচবে, দর্শক ফিরবে, উন্নয়ন হবে ইন্ডাস্ট্রির। আরেকটি পক্ষ বলছে ওপেন করে দিলে বাংলাদেশের সিনেমা মার খাবে, নির্মাতারা বেকার হবে, দেশটা ভারতীয় সিনেমার বাজারে পরিণত হবে! এখানটায় আপনার বিশ্লেষণ বা অভিজ্ঞতা কী বলে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: দুইপক্ষেই আমি। দুটোই ঠিক। যদি বাংলাদেশের দরজা খুলে যায়- তবে বাংলা ছবির প্রভূত উন্নতি হবে। কিন্তু এটা তো বাংলাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হিন্দি, তামিল, তেলুগু আসবে। সেগুলোও বাঙালিরা পছন্দ করবেন। দিনশেষে দুই বাংলাই কিন্তু মার খাবে। তাহলে যে কারণে ভাষা আন্দোলন হয়েছে, যে কারণে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, সেটা তো বিফলে যাবে। তার মানে দুইপক্ষ যা বলছে ঠিক বলছে!

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে এর সমাধানটা কী হতে পারে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: আমি কি সমাধান করার লোক? সমাধান করবে যারা বুদ্ধিমান। যারা পলিসি মেকার। আমি তো সাধারণ একজন কর্মী মাত্র। শুধু এটুকু চাই, এমন কিছু হোক যাতে সবার ভালো হয়। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভালো হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ থেকে যেটা আমরা দেখতে পাই বা ফিল করি, সেটা হলো বলিউডের চাপে টলিউডও বেশ কোণঠাসা।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: একদম তাই। কারণ, একটা মাল্টিপ্লেক্সে বাংলা ছবির স্ক্রিনিং যদি হয় ৫টা তবে হিন্দি ছবির স্ক্রিনিং হয় ২০টা। তার মানে কী, হিন্দি ছবিটাই দেখছে বেশি মানুষ। বাংলাটা মার খাচ্ছে। হিন্দিটা না থাকলে হয়তো ২৫টা স্ক্রিনই বাংলার হতো।

কিন্তু আমাদের (বাংলা ছবি) যদি কুড়িটা শো দেয়, সেটা কি দর্শক দেখবে? হয়তো এত স্ক্রিনই থাকতো না হিন্দি ছবি না এলে।

তাই আমি বারবার বলছি, এসব না ভেবে আমাদের বাংলা ছবিকে আরও গ্লোবালাইজ করতে হবে। হিন্দি, তামিল, তেলুগুর মতো অ্যাডভান্স হতে হবে। যেন টক্কর দিতে পারি। দোষারোপ করে লাভ নেই।

প্রতিবেদক মাহমুদ মানজুর (ডানে) ও কিংবদন্তি সব্যসাচী চক্রবর্তী/ ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ট্রিবিউন: টলিউড, বলিউড, ঢালিউড হয়ে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করেছেন। কাজ বা পরিবেশ বা মানের পার্থক্যটা আপনি ছাড়া ভালো কেউ আর বলার নেই।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: দেখুন পার্থক্যটা অর্থনৈতিক। এখন তো হিন্দির চেয়েও দক্ষিণের বাজেট বেশি। তারা ভালো টেকনিশিয়ান আর ক্রিয়েটিভ লোক তৈরি করেছে। বাংলা ছবিতে সেটা হতে হবে। শুধু যে বাজেটে মার খাচ্ছি তা না। টেকনিক্যাল দিকেও আমাদের মন দিতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার ব্যক্তিজীবনে একটু আসি। অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: প্রাপ্তি আর কী। অভিনেতাই হতে চাইনি, জোর করে বানিয়েছে। যখন হয়ে গেছি তখন আমার প্রিয় চরিত্র ছিল ফেলুদা। সেটাও পেয়ে গেলাম। আমার আর কিছু দরকার পড়েনি।

বাংলা ট্রিবিউন: অপ্রাপ্তি?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: অপ্রাপ্তি? আমি আরেকটু টাফ গাই রোলস করতে চেয়েছি। যখন ইয়াং ছিলাম। তখন হলিউডের ক্লিন্ট ইস্টউড, রবার্ট ডি’র অভিনয় আমার খুব ভালো লাগতো। ভাবতাম আমিও যদি ওদের মতো অ্যাকশন ছবি করতে পারতাম। কিন্তু তেমন চরিত্র আমি পাইনি। কারণ, তখন তেমন সিনেমা তৈরিই হতো না। মানুষের তো অনেক রকম স্বপ্নই থাকে। সব তো আর পূরণ হয় না। সেটা নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: অভিনয়শিল্পী না হলে কী হতেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: কে জানে? হয়তো ঠেলা চালাতাম। হয়তো সবজি বিক্রি করতাম। হয়তো মাটি কাটতাম। কে জানে কী হতাম। তবে আমার যেমন ধরনের শিক্ষা ছিল বা যেমন বাড়িতে মানুষ হয়েছি, তাতে মনে হয়েছে পুলিশ, চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারতাম। আর সেসব না হলেও একজন ভালো ড্রাইভার হতে পারতাম!

বাংলা ট্রিবিউন: ড্রাইভার!

সব্যসাচী চক্রবর্তী: আমার গাড়ি চালাতে ভীষণ ভালো লাগে। রেসিং নয়। আমি স্লো এন স্টেডি। গাড়ি চালিয়ে পুরো ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়িয়েছি। গাড়ি চালানোয় আমার অনেক রকম রেকর্ড আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে গাড়ির কালেকশন আছে!

সব্যসাচী চক্রবর্তী: কালেকশন! হুম একটা সময় ছোট ছোট অনেক খেলনা গাড়ি ছিল। আর চড়ার মতো আমার একটাই গাড়ি আছে।

সব্যসাচী চক্রবর্তী/ ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ট্রিবিউন: একটু বাংলাদেশে ফিরতে চাই। বাংলাদেশে ইদানীং ভালো ভালো ছবি হচ্ছে। সম্প্রতি ‘হাওয়া’ তো কলকাতা কাঁপালো। আমাদের চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমরা কলকাতায় বেশ পপুলারও। একজন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা বা পথ প্রদর্শক হিসেবে আপনার কোনও অবজারভেশন বা প্রতিক্রিয়া...

সব্যসাচী চক্রবর্তী: অবজারভেশন আবার কী? আমি তো অবজারভার নই। আমার একটাই অবজারভেশন, এরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। এদের উত্তরোত্তর আরও শ্রীবৃদ্ধি হোক। আরও নাম করুক। সারা বিশ্বে বাঙালি অভিনেতার নাম ফুটুক।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ নামটা মাথায় এলে মানসপটে প্রথম কী ফুটে ওঠে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: ১৯৭১। ভাষা আন্দোলন। বাঙালি হিসেবে তখন গর্ব হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: নিজেকে আপনি সফল মানুষ মনে করেন কিনা। করলে কতখানি?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: খুব একটা সফল নই। শুধু অভিনয় করে কয়েকজনকে ভালো লাগাতে পেরেছি বলে সফল বলা ঠিক হবে না। খানিক অংশ সফল বলা যায়। খবর কাগজে ছবি বেরুলে টিভিতে ইন্টারভিউ গেলে কেউ সফল হয় না। আমার বাবা অনেক সফল ছিলেন। তিনি ডবল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, নাটক, গান, সিনেমা, কবিতা, উপন্যাস লিখেছেন। তিনি এইট মিলিমিটার ফিল্ম বানিয়েছিলেন। নাটকের সেট করেছেন। লং ডিস্টেন্স ড্রাইভিং করেছেন। তিনি এমন অনেক কিছু করেছেন, যার সবটা আমি করতে পারিনি। তিনি উচ্চতায় ছয় ফিট চার ইঞ্চি ছিলেন। আমার চেয়েও উঁচু।  

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে তিনিই রিয়েল সব্যসাচী?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: অ্যাবসুলিউটলি। তিনিই রিয়েল ফেলুদা। আমি না।

বাংলা ট্রিবিউন: খুব শকিং একটা খবর দিলেন এবারের ঢাকা যাত্রায়...

সব্যসাচী চক্রবর্তী: শকিংয়ের কি আছে? সবাইকে তো একটা সময় এসে অবসরে যেতে হয়। মানুষ ৬০ বছরের পর চাকরি থেকে অবসর নেয় না? আমি তো সেই বয়স কবেই ফেলে এসেছি। আমার রিটায়ারমেন্টটা তো ন্যাচারাল।

বাংলা ট্রিবিউন: এই সিদ্ধান্ত কি আসলেই অফিসিয়ালি চূড়ান্ত!

সব্যসাচী চক্রবর্তী: অফিসিয়ালি কিছু নয়। কিন্তু মনে হয়েছে আমার আর নতুন কিছু দেওয়ার নেই। তাই অবসর নেওয়া যেতেই পারে। বিষয়টা তো এমন নয়, বন্ড পেপারে লিখে দিলাম- আমি আজ থেকে আর অভিনয় করবো না। তেমন কিছু নয়। তবে আমি পরিকল্পনা করছি- আর কাজ করবো না। অভিনয় যথেষ্ট করেছি। এখন অন্য অনেক কাজ রয়েছে। ছবি তোলা, বই লেখা, বাড়ির অনেক কাজ আছে।

এতদিন তো আমি বাইরে কাজ করেছি। আমার বউ বাড়ি সামলেছে। এবার বউ বাইরে কাজ করুক, আমি বাড়ি সামলাবো।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ঘরোয়া জীবনের জন্য শুভকামনা। অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: ধন্যবাদ।

 

/এমএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
‘ওনার মতো ভালো মানুষ রাজনীতিতে আরও আসা উচিত’
তারকা যখন ভোটার‘ওনার মতো ভালো মানুষ রাজনীতিতে আরও আসা উচিত’
‘প্রথম যেবার ভোট দিয়েছিলাম, সেই পরিবেশটা চাই’
তারকা যখন ভোটার‘প্রথম যেবার ভোট দিয়েছিলাম, সেই পরিবেশটা চাই’
নিজেকে ক্ষমা করে দিলাম: চমক
নতুন বছরের ইশতেহারনিজেকে ক্ষমা করে দিলাম: চমক
‘প্রতিক্রিয়া সাইবেরিয়ার তুষারপাতের মতো ভীষণ শীতল’
তারকা যখন ভোটার‘প্রতিক্রিয়া সাইবেরিয়ার তুষারপাতের মতো ভীষণ শীতল’
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
তিন খান একসঙ্গে নাচলেন বিয়েবাড়িতে
তিন খান একসঙ্গে নাচলেন বিয়েবাড়িতে
‘অবৈধ ব্যক্তির কোনও সিদ্ধান্তে আমার মাথাব্যথা নেই’
সমিতির সদস্যপদ হারালেন জায়েদ খান‘অবৈধ ব্যক্তির কোনও সিদ্ধান্তে আমার মাথাব্যথা নেই’
প্রতিষ্ঠার ৪১ পেরিয়ে...
প্রতিষ্ঠার ৪১ পেরিয়ে...
বনভোজনে নিপুণের ঘোষণা: জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল
বনভোজনে নিপুণের ঘোষণা: জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল
আলোচিত ছবি: কোথায়, কীভাবে দেখবেন
আলোচিত ছবি: কোথায়, কীভাবে দেখবেন