X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১
ফিল্ম রিভিউ

ব্ল্যাক ওয়ার: ছবিতে নেই জঙ্গিবাদের উৎস খোঁজার অভিপ্রায়

আহসান কবির
১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩১আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:১৪

১৩ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া এক ‘পুলিশি অ্যাকশন’  ছবির নাম ‘ব্ল্যাক ওয়ার’। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর পর ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির সিকুয়েল এই ‘ব্ল্যাক ওয়ার’। জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশি সফলতার গল্প নির্ভর ছবি ‘ব্ল্যা‌ক ওয়ার’। ‘ফর্মুলা’ ছবির সব ছক মেনে শেষমেশ ‘দুষ্টের দমন’ মূলক ছবি ব্ল্যাক ওয়ার। মানবতা ও সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে  হলিউডি নায়ক সিলভেস্টার স্ট্যালোন কিংবা আর্নল্ড সোয়ার্জিনেগারদের মতো (হিন্দি ছবির উদাহরণও টানা যেতে পারে) ‘নায়ক’কে ‘গ্ল্যামারাইজ’ করার ছবিও ‘ব্ল্যাক ওয়ার’। 

এই ছবির পরিচালক দু’জন- সানি সানোয়ার ও ফয়সল আহমেদ। পরিচালক সানি সানোয়ারের ‘পুলিশি’ অভিজ্ঞতার কারণে ছবির গল্পে সামান্য ব্যতিক্রম আছে। জঙ্গিদের আড্ডাস্থল, তাদের ব্যবহার করা ব্যাগের রং, জঙ্গি সংশ্লিষ্টরা নিজেদের আড়ালে রাখতে যে ‘কাট অফ কৌশল’ ব্যবহার করে সেটা এবং শেষমেশ ছবির পুলিশি অ্যাকশনে স্মার্টনেস আছে। ছবির এক অংশের শুটিং হয়েছে ইউনাইটেড আরব আমিরাতে। 

ছবির নায়ক পুলিশ অফিসার আরিফিন শুভ ছুটে যায় আরব আমিরাতে, জানা যায় এক জঙ্গি সেখানে গেছে ‘ফান্ড’ সংগ্রহের জন্য। দুবাইতে বসবাসরত ব্যবসায়ী ঠিক কোন উদ্দেশে সাহায্য করতে চান তা ছবিতে স্পষ্ট নয়। কিন্তু যিনি ফান্ড সংগ্রহ করতে যান সেই ইরেশ যাকের মারা যান বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে, সেখানে যাওয়া পুলিশের এডিসি নাভেদের (আরিফিন শুভ) এক অ্যামবুশে।

নাভেদকে সাহায্যকারী ডিব্বার (ফজলুর রহমান বাবু) মৃত্যুর পর দেশে ফেরেন নাভেদ। জঙ্গিদের পেছনে লেগে থাকেন জোঁকের মতো। এরপর জানা যায় ছবির অন্যতম নায়িকা নারী পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যার বিয়ে হবার কথা সেও জড়িত জঙ্গিবাদের সাথে। জঙ্গিরা এটা জেনে যাবার পর সেই নারী কর্মকর্তা বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত  নিলেও জঙ্গিরা মেরে ফেলে সেই লোককে। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা দেখানোর জন্য ছবিতে গানের অনুষ্ঠানে বোমা মারা, প্রযুক্তিগতভাবে জঙ্গিদের এগিয়ে থাকার ব্যাপারটা আছে। আছে গোয়েন্দা নজরদারির পুলিশি ব্যবস্থার প্রতিফলন। আছে ফর্মুলা ছবির ছক অনুসারে জঙ্গিদের কিডন্যাপিং, স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ আর টেলিভিশন স্টেশন দখলের অভিপ্রায়। আছে দুর্দান্ত পুলিশি অ্যাকশন। আছে আইটেম গানও! আছে জঙ্গি দমন করতে যেয়ে পুলিশ অফিসার নাভেদের আত্মাহুতি। 

সমালোচক আহসান কবির তবে ছবিতে নেই জঙ্গিবাদের উৎস খোঁজার অভিপ্রায় বা ফিল্মি চোখ। কারা করছে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা তার ইঙ্গিতও নেই ছবিতে। নেই মানুষ কেন ধর্মের অন্ধকার পথটা বেছে নিচ্ছে সেই উত্তর। নেই জঙ্গি হিসেবে অভিনয়কারী তাসকিনের চরিত্রের সার্বিক রূপায়ণ। নেই ফজলুর রহমান বাবু বা আরও কিছু ছোট ছোট চরিত্রের সার্থক রূপায়ণ। তবু সানি সানোয়ার ও ফয়সালকে ধন্যবাদ তাদের চেষ্টার জন্য। একই বিষয় নিয়ে কয়েক বছর আগে ছবি বানিয়েছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ‘শনিবার বিকেল’ নামের সেই ছবি আজও মুক্তি পায়নি!

ছবিতে এডিসি নাভেদের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই ছবির জন্য অনেকটা ‘ম্যাচো’ম্যান হয়েছেন তিনি। দশ মাস চেষ্টার পর তার এই শারীরিক পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন স্মার্টলি চরিত্রটা ডিল করতে। ‘সিক্সপ্যাক’ শরীরের সাথে গলার ভয়েজটা মেলেনি অনেক জায়গায়! ভালো করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীও। অনেক ছোট বড় চরিত্রের সংমিশ্রণ আছে এই ছবিতে। এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, দিলারা জামান, মিশা সওদাগর, শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান, তাসকিন রহমান, মনোজ প্রামাণিক, সাদিয়া নাবিলা, খালিদ হাসান রুমি, খসরু পারভেজ, আইনুন পুতুল এবং আইটেম গানে অংশ নিয়েছেন ববি।
 
দুই তিনটি দৃশ্যে উপস্থিতি থাকলেও ফজলুর রহমান বাবু ছিলেন সপ্রতিভ। হাসান ইমাম, শতাব্দী ওয়াদুদ, তাসকিন, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান ও মনোজ প্রামাণিকও ভালো অভিনয় করেছেন। ‘ডিরেক্টরস সিগনেচার’-এর অংশ হিসেবে সানি সানোয়ারও অভিনয় করেছেন! 

ছবির সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান, মীর মাসুম ও নাদিম ভূঁইয়া। ‘চালাও গুলি’ শিরোনামের আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নাশা ও মীর মাসুম। মা’কে নিবেদিত গানটাও সুমধুর। ‘জানি তুমি ছিলে’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও দোলা রহমান। গানটি লিখেছেন রাকিব হোসেন রাহুল এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান। 

ছবির অন্যতম নায়িকা ঐশী পরিচালনা ও প্রযোজনার সাথে এই ছবির কাহিনি লিখেছেন সানি সানোয়ার নিজেই। ছবির অ্যাকশন দৃশ্যে মুনশিয়ানা থাকলেও গানের চিত্রায়ন আর স্বাভাবিক দৃশ্য চিত্রায়নে স্পষ্ট ফারাক আছে। ছবির অনেক জায়গায় অ্যাকশন দৃশ্যের মতো ফটোগ্রাফি ‘স্মার্ট’ ছিল না।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব (ব্ল্যাক ওয়ার) বছরের প্রথম ছবি হিসেবে ৪৪টি হলে মুক্তি পায় ২৩ জানুয়ারি। 

জয় হোক বাংলা ছবির।

সমালোচক: রম্যলেখক, সাংবাদিক ও কবি

/এমএম/
সম্পর্কিত
দেয়ালের দেশ: মন খারাপ করা সিনেমা
সিনেমা সমালোচনাদেয়ালের দেশ: মন খারাপ করা সিনেমা
ওমর: ‘নায়িকাবিহীন’ এক থ্রিলার
সিনেমা সমালোচনাওমর: ‘নায়িকাবিহীন’ এক থ্রিলার
রাজকুমার: ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ এক বিয়োগান্তক ছবি
সিনেমা সমালোচনারাজকুমার: ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ এক বিয়োগান্তক ছবি
কাজলরেখা: ঘোড়া, গরু, হাতিগুলো স্বাস্থ্যবান নয়
সিনেমা সমালোচনাকাজলরেখা: ঘোড়া, গরু, হাতিগুলো স্বাস্থ্যবান নয়
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
শাকিবের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা অন্যরকম: চঞ্চল
শাকিবের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা অন্যরকম: চঞ্চল
‘লম্বা’ নায়িকা প্রসঙ্গে কৃতির ব্যাখ্যা
‘লম্বা’ নায়িকা প্রসঙ্গে কৃতির ব্যাখ্যা
জানা-অজানা ১০ তথ্যে সত্যজিৎ রায়
প্রয়াণ দিনে স্মরণজানা-অজানা ১০ তথ্যে সত্যজিৎ রায়
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
‘ওপারে ভালো থেকো বন্ধু’
অভিনেতা রুমির মৃত্যু‘ওপারে ভালো থেকো বন্ধু’