একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গোটা দেশ যেন স্তম্ভিত। ঘটনাটি বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে জন-জোয়ারের মাঝে ঘটলেও, সেই ঘটনাটি মূলত ভাইরাল হয় শুক্রবার (১১ জুলাই) বাদজুমা।
এই হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে উত্তাল সোশ্যাল হ্যান্ডেল। ঘটনার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছে সর্বস্তরের মানুষ।
যথারীতি সেই প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জোরকণ্ঠে হাত উঁচালেন নির্মাতা আশফাক নিপুন। তিনি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের ক্ষমতায়িত করবেন?’
সোশ্যালে দেওয়া তার বক্তব্যটি এমন, ‘চাঁদাবাজি/ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ/ পার্সেন্টেজ যেই নাম আর কারণই দেয়া হোক না কেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের ভেতরে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে যে নৃশংসভাবে হত্যা আর (বুক আর মাথার ওপর বিশাল পাথর ফেলে ফেলে) উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে মৃতদেহের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে উল্লাস করা হলো শতশত মানুষের সামনে, এই ভয়াবহ ঘটনা এবং ভিডিও লিটমাস টেস্ট হয়ে থাকল অদূর ভবিষ্যতে ভোটের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসবেন তাদের জন্য।’
প্রশ্ন করে বলেন, ‘‘আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের ক্ষমতায়িত করবেন? নাকি সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়িত করবেন? আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের সেবা করবেন? নাকি সাধারণ মানুষের সেবা করবেন? আপনারা কি ‘সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই, সে যে দলেরই হোক না কেন’ বলে আইন এবং বিচারের শাসন নিশ্চিত করবেন? নাকি ঘটনার পর ‘অমুক সন্ত্রাসী আমার দলের কেউ না’ বলে দায় সারবেন?’’
নির্মাতা আরও বলেন, ‘‘আমরা ‘রোগী মরিবার পরে ডাক্তার সাহেব আসিলেন’ দেখতে চাই না আর। এই দেশেরই প্রবল প্রতাপশালী সরকার প্রধান, তার পরিবারসহ লেজ তুলে পালাতে বাধ্য হয়, যখন সাধারণ মানুষ লাল কার্ড দেখায়। মানুষ যেন আবার লাল কার্ড না দেখায়, সেই ভয়টা রাখেন। সেভাবে কাজ করেন। সোহাগ হত্যাকারী গ্রেফতারকৃত মহিন আর তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।’’
বলা দরকার, রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে সোহাগ (৪৩) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার ৪ নম্বর রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। ঘটনার পর পুলিশ জনি ও মঈন নামে দুজনকে আটক করেছে।




