নামটা খানিক খটকা লাগার মতো, ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’। প্রথম শোনা গেছে জুলাই বিপ্লবে। যার জন্ম হয়েছে জুলাই বিপ্লবের ভেতর দিয়ে। যে ছাতার নিচে আচানক মিলিত হয়েছেন সংস্কৃতির নানান শাখার বিপ্লবীরা। ২০২৪ সালের প্রথম আগস্ট তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই ব্যানারে রাজপথে নেমেছিলেন একঝাঁক শিল্পী।
সেদিন ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’-এর ব্যানার হাতে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে স্লোগান উঠেছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। ধর্ম-জাতি-মত-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সময়ের প্রয়োজনে শিল্পীদের ঐক্য ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র-কাঠামোর ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল সেদিন। এরপর ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সমাবেশেও মশাল হাতে দেখা মিলেছিলো এই ব্যানারের। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অদৃশ্য হয়ে যায়নি ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’। বরং দারুণ দৃশ্যমান হয়ে ধরা দিয়েছিলো ১০ আগস্ট, জাতীয় শহীদ মিনারে। ‘সৃষ্টির স্বাধীনতায় সাহসী বাংলাদেশ’-এই মূলমন্ত্রে সেদিনের শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী সমাবেশ থেকে আওয়াজ উঠেছিল নতুন প্রত্যয়, মুক্তচিন্তা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব ঐক্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।
সেই উজ্জ্বল আগস্ট ফিরে আসছে এই আগস্টে। যার প্রতিধ্বনি মিলছে ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’-এর কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে। ‘কইলজ্যা কাঁপানো ৩৬ দিন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাংস্কৃতিক নির্মাণ’ শীর্ষক আহ্বানে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের কর্মসূচি ঘোষণা হলো আজ (১৩ জুলাই ২০২৫)। এদিন সকাল ১১টায় কর্মসূচির ঘোষণা দিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার কনফারেন্স রুমে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ আগামী ২ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দিনব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
তার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে মূল বক্তব্যটি যৌথভাবে পাঠ করেন আকরাম খান, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, ফারিহা শামস সেঁওতি ও সরকার প্রতীক। কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাহিন ফারুক আমিন ও ধ্রুব হাসান। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেছেন তাসলিমা আখতার।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আজমেরী হক বাঁধন, তানিম নূর, কৃষ্ণকলি, শাহীন দিল-রিয়াজ, মুনেম ওয়াসিফ, ড. সামিনা লুৎফা, আসাদুজ্জামান আসাদ, তানহা জাফরিন, ডঃ আনন সিদ্দীকা, মুশফিকুর রহমান মঞ্জু, কৃষ্ণকলি ইসলাম, মোহাম্মদ আলী হায়দার, বিথী ঘোষ প্রমুখ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান, বরকত হোসেন পলাশ, জগন্ময় পাল, মিতু রহমান, রাফি উদ্দিন, শাদাব শাহরুখ হাই প্রমুখ।
দৃশ্যমাধ্যম সমাজের মূল বার্তা এবং কর্মসূচি ঘোষণা শেষে একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সংগঠনটি তাদের ২ আগস্টের কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানানো হয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, প্রেক্ষাপট ও ফলাফলকে স্মরণ ও বিশ্লেষণ করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দৃশ্যমাধ্যম সমাজের ভূমিকা তুলে ধরা এবং কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতের জন্য সাংস্কৃতিক সংগ্রামের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।
এই আয়োজনে থাকছে শহীদি মিছিল, লাইভ গ্রাফিতি, আলোচনা সভা, থিয়েটার পারফর্মেন্স, গান, কবিতা, ফ্যাসিবাদ বিরোধী চলচ্চিত্র উৎসব, গণঅভ্যুত্থানের ছবি, পোস্টার ও মিম প্রদর্শনী।
ছবি: শাদাব শাহরুখ হাই









